ঈদের আগে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ ও আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ ৭ দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে বেসরকারি পাট, সুতা ও বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল সন্ধ্যায় খুলনা-যশোর মহাসড়কের শিরোমনিতে এক বিশাল মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
৭ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: ১. আটরা, মিরেরডাঙ্গা শিল্প এলাকার মহসেন, সোনালী, অ্যাজাক্স, আফিল, হুগলী কোম্পানি সহ বন্ধ মিল পুনরায় চালু করা। ২. আংশিক চালুকৃত জুট স্পিনার্স মিলের শ্রমিকদের সকল বকেয়া পাওনা এককালীন পরিশোধ। ৩. আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার। ৪. ২০০৬ সালের শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের সকল দাবি বাস্তবায়ন। 5. ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করা। 6. শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১০,০০০ টাকা নির্ধারণ। 7. গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ দ্রুত পরিশোধ।
মশাল মিছিল শেষে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি গোলাম রসুল খান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খানজাহান আলী থানা বিএনপির সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ তারেক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আজহার মাদবর, ক্বারী আসহাবউদ্দীন, আঃ ওহাব, কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, আলাউদ্দীন, জাহাঙ্গির, কেসমত প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০০৬ সালের শ্রম আইনে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের বিধান থাকলেও বছরের পর বছর কেটে গেলেও শ্রমিকদের গ্র্যাচুইটি ও পিএফের টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে না। ফলে হাজার হাজার শ্রমিক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেছে।
চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা: আগামী ২৪ মার্চের মধ্যে শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধ করা না হলে ২৭ মার্চ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খুলনা-যশোর মহাসড়কের শিরোমনিতে রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
এই আন্দোলনের মাধ্যমে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে সক্ষম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।
https://slotbet.online/