পিরোজপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি ৭ দফা দাবিতে আলাদাভাবে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে। এসময় দু’পক্ষে মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
রোববার সকাল ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শাহনেওয়াজ অভি, রোদায়ান রিয়াদ, এমরান আহম্মেদ, আসমা আক্তার মিতু, জামান ইসলামের নেতৃত্বে ছাত্র প্রতিনিধিদের একটি দল শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে লিফলেট বিতরণ শুরু করে। তারা পৌর শহরের দোকান ও পথচারীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন।
অন্যদিকে দুপুর ১২টার দিকে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড গোল চত্বর এলাকা থেকে জাতীয় নাগরিক কমিটির ব্যানারে পিরোজপুর জেলা সংগঠক মো. মুছাব্বির মাহামুদ ছানি, শহিদুল ইসলাম, সানজিদা আক্তারের নেতৃত্বে লিফলেট বিতরণ ও টাউন ক্লাব মাঠে সমাবেশ করে। পরে দুপুর ১টার দিকে শহরের টাউন ক্লাব চত্বর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ আহত হয়নি। এ ঘটনার বিষয়ে কোনো পক্ষই কথা বলতে রাজি হয়নি।
এ বিষয়ে পিরোজপুর থানার এসআই মোল্লা রমিজ জাহান জুম্মা জানান, দুপুর ১টার দিকে টাউন ক্লাব মাঠে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এসময় কিছুটা উত্তেজনার দেখা দিলে দায়িত্বরত পুলিশ উভয় গ্রুপের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।
শহরে লিফলেট বিতরণকালে স্থানীয় জনতার উদ্দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হয়েছে, এ বিষয়ে সরকারকে কি প্রশ্ন করতে পেরেছেন, কোন যুক্তিতে দাম বাড়াচ্ছে? এই প্রশ্নটি করার জন্য একটি নতুন সংবিধান লাগবে। এই আন্দোলনের জন্য ১৫০০-২ হাজার লোক শহীদ হয়েছেন। তাদের রক্তের জন্য হলেও এই জিনিসটা লাগবে। এখন অনেকেই বলছে, নির্বাচিত হলে তারা অনেক কিছু করে দেবে। নির্বাচন হলে যেই আসুক না কেন, তারা যে ওয়াদা করেছে সেই ওয়াদা পূরণ করতে না পারলে এই নতুন সংবিধানের আলোকে আপনারা তাদেরকে ধরতে পারবেন।
নেতৃবৃন্দরা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি যৌথভাবে সারাদেশে জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে গণসমাবেশ করবে। সকল শ্রেণির জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে এই জনসংযোগ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে পিরোজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের মতবিনিময় সভায় পিরোজপুরের জেলা শাখার কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছিল। পিরোজপুরে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শাহরিয়ার আমীন সাগর ও মুসাব্বির মাহমুদ সানি নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক দাবি করলে তাদের মেনে নেননি সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে যায়। একটি গ্রুপ জাতীয় নাগরিক কমিটি এবং অন্য একটি গ্রুপ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে শুরু করে।
https://slotbet.online/