মাসুদুর রহমান : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্পের প্রশিক্ষক কর্মকর্তা রেজাউল করিম, ট্রেইনার ট্রেড প্রশিক্ষক পারভেজ ও অফিস সহায়ক নাহিদকে প্রত্যাহারের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন দিয়েছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে তিন টায় প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীরা উপজেলা পরিষদে ৩ জনের প্রত্যাহারের দাবীতে বিক্ষোভ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করেন৷
জানা যায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জাতীয় মহিলা সংস্থার তৃণমূল পর্যায়ে অথনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। সরিষাবাড়ী উপজেলায় প্রশিক্ষক কর্মকর্তা রেজাউল করিম যোগদানের পর থেকেই আচার আচরণ অত্যন্ত অমানবিক, ছাত্রীদের সাথে খুবই খারাপ আচরণ করে আসছে ।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ জানায়, শিক্ষার্থীদের আত্মীয় , বোন-ভাই, বাবা অসুস্থ হলে বা মারা গেলেও ছুটি দেন না এই কর্মকর্তা । বলে মৃত্যু সনদ নিয়ে আসেন। কোন শিক্ষার্থীর সন্তান অসুস্থ হলেও ছুটি দেন না। অফিস কক্ষে পানি খেতে গেলেও দূর দূর করে তাড়িয়ে দেন। অতি বৃষ্টির জন্য ক্লাসে পৌঁছাতে একটু দেরি হলেও অ্যাবসেন্ট দিয়ে দেন। শিক্ষার্থীদের সাথে কু-রুচিপূর্ণ কথা বলে থাকেন। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে আরো বলেন, ইন্টারের ডিজাইন এন্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনার পারভেজ উনি ক্লাস এবং বাইরের সকল শিক্ষার্থীর সাথে খুবই জঘন্য আচরণ করে। আমাদের এক স্টুডেন্ট এর হাত মচকে গেলে ছুটি চাওয়ায় বলে এক্স-রে রিপোর্ট নিয়ে আসতে। স্টমাক ইনফেকশন হলেও বলে ছুটি নেই। ছাত্রীদের মোবাইলে ফোন দিয়ে নানাভাবে বিরক্ত করে। কিছু ছাত্রির সাথে তার অস্বাভাবিক মেলামেশা লক্ষ্য করা যায়। স্বজনপ্রীতি করে, তার প্রতিবাদ করলে হাজিরা কেটে দেন। শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, অফিস সহায়ক নাহিদ উনি অফিসে নেশাগ্রস্থ থাকে এবং বিভিন্ন নেশাগ্রস্থ ছেলেদের নিয়ে অফিসে আমাদের কু-রুচিপূর্ণ কথা বলে আমরা প্রতিবাদ করলেও কর্মকর্তা রেজাউল করিম তার পক্ষ হয়ে, আমাদের টাকা কেটে নিবে বলে হুমকি দিয়ে থাকে। নাহিদ একাই অফিসের একটি চারতলায় পুরো একটি ফ্ল্যাট নিয়ে থাকে রাতে এবং রাতে বিভিন্ন মেয়ে নিয়ে আসে অফিস ফ্ল্যাটে। অফিস সহায়ক নাহিদ প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষার্থীদের চাপে রাখে। আমরা অমানুষিক আচরণের জন্য এই তিন জনের প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় আমরা সকল শিক্ষার্থীবৃন্দ কঠিন আন্দোলনের জন্য মাঠে নামতে বাধ্য হবো।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশিক্ষক কর্মকর্তা রেজাউল করিম মুঠোফোনে , এগুলো সম্পুর্ন মিথ্যা। এদিকে অফিস সহায়ক নাহিদের কর্মকান্ড বিষয়ের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার যোগদানের পর এমন কোন অভিযোগ আমি পায়নি।
সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে৷
এদিকে বিষয়টি নিয়ে জামালপুর জেলা প্রশাসক প্রশাসক হাছিনা বেগমকে বিকেল ৫ টা১৭ মিনিটে কল দেওয়া হলে রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব প্রভাষ চন্দ্র রায় এ প্রতিবেদক মাসুদুর রহমানকে জানান, সেখানে যদি লিখিত অভিযোগ দিয়ে থাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেখানকার প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে জানাবে, তারা আমাদের জানাবে৷ আমি এখনো বিষয়টি নিয়ে অবগত নয়৷
মাসুদুর রহমান
https://slotbet.online/