দীর্ঘ ২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে সশরীরে হাজির হয়ে এক বিশাল জনসমুদ্রে আগামীর বাংলাদেশের স্বপ্নের জাল বুনলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে দেশ পুনর্গঠনের এক মাহেন্দ্রক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেন ।
এসময় তিনি ঘোষণা করেন যে, জনগণের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে এবং সেই সঙ্গে দুস্থ মানুষের এনজিও ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র। উত্তরাঞ্চলকে কৃষিপ্রধান অঞ্চল হিসেবে প্রাধান্য দিয়ে তিনি এখানে আধুনিক হিমাগার স্থাপন, কৃষিভিত্তিক কলকারখানা গড়ে তোলাসহ মৃতপ্রায় চিনিকল, রেশম ও চা শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার বলিষ্ঠ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও তিনি বলেন, কেবল কৃষি নয়, নারীদের স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি গৃহিণীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দিয়ে মাসিক আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং বেকার তরুণদের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ে বিশেষ আইটি পার্ক বা হাব গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। আধুনিক ঠাকুরগাঁও গড়ার লক্ষ্যে বন্ধ বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা, মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং দীর্ঘদিনের ক্যাডেট কলেজের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে তিনি স্বাস্থ্যসেবাকে গ্রামের মা ও শিশুদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতাকে রক্ষা করে এখন সময় উন্নত দেশ গড়ার, যেখানে ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে নয় বরং যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে প্রতিটি মানুষ তার পরিচয় গড়বে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের এই স্বপ্ন ছড়িয়ে দিয়ে তিনি স্থানীয় ধানের শীষের প্রার্থীদের সাথে উপস্থিত জনতার পরিচয় করিয়ে দেন এবং ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁদের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে ২৪ ঘণ্টা জনসেবায় নিবেদিত থাকবে তাঁর সরকার।
https://slotbet.online/