• শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
থানায় ঢুকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনেই সাংবাদিকদের পেটালেন সন্ত্রাসীরা ঝিনাইদহ টু চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কে আলমসাধু উল্টে নিহত ১, আহত ৩ নবীনগরের কথা পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের শুভ উদ্বোধন প্রিন্ট সংস্করণ প্রকাশে অর্থনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জুলাই বিপ্লবের বেনিফিসিয়ারি বিএনপি গাদ্দারি করছে- মিয়া গোলাম পরওয়ার দুদকের তদন্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ- আদালতে ব্যাখ্যা দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা শহীদ আবু সাঈদকে স্মরণে কলারোয়ায় জামায়াতের র‍্যালি ও আলোচনা সভা লোকগীতিতে সারা দেশে প্রথম, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক পেল সখীপুরের অনয়া ​বারবার সতর্কতার পরও অবহেলা: এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫ মামলায় ৩১ হাজার টাকা জরিমানা ডিএসসিসির ঝিনাইদহে পুলিশের অভিযানে আটক, পরে মুক্তি—এএসআইয়ের বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন

বলধরায় ঐতিহ্যবাহী ‘বুড়ির মেলা’য় মানুষের ঢল

মো: রেজাউল করিম / ৬৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬

পৌষ সংক্রান্তির দিনে গ্রামবাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বুকে ধারণ করে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বলধরা গ্রামে বসেছে বহুল পরিচিত ঐতিহ্যবাহী বুড়ির মেলা।
বুধবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ইং সকাল থেকে দিনভর এই মেলাকে ঘিরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
শীতের নরম রোদ আর কুয়াশা ভেজা সকালে ভোর থেকেই মেলার প্রস্তুতি শুরু হয়। সকাল গড়াতেই বলধরা গ্রামসহ আশপাশের ইউনিয়ন, উপজেলা এবং দূর–দূরান্তের গ্রাম ও শহর থেকে দলে দলে মানুষ মেলায় আসতে থাকে। শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস, তরুণদের কৌতূহল ও বয়োজ্যেষ্ঠদের স্মৃতিমাখা আবেগে মেলাটি পরিণত হয় এক বিশাল সামাজিক মিলনমেলায়।
মেলাজুড়ে দেখা যায় গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী পণ্যের সমাহার। মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, কলসি ও খেলনা, বাঁশ ও কাঠের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, কাঁসা-পিতলের বাসন, দেশীয় কাপড়, কৃষিজ উপকরণ ও বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্পের দোকানে ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। এসব পণ্য ঘিরে স্থানীয় কারিগর ও বিক্রেতাদের মুখে ছিল স্বস্তির হাসি।
বুড়ির মেলার অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল দেশীয় খাবার ও পিঠা-পুলি। চিতই, ভাপা, পাটিসাপটা, তিলের পিঠা, নাড়ু, মুড়ি-মুড়কি ও নানা ধরনের মিষ্টান্নের দোকানগুলোতে সারাক্ষণই লেগে ছিল ভিড়। অনেক দর্শনার্থী জানান, এই মেলার খাবারের স্বাদে মিশে আছে শৈশবের স্মৃতি ও গ্রামবাংলার নিজস্ব ঘ্রাণ।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, বুড়ির মেলা শুধু কেনাবেচার স্থান নয়; এটি এলাকার ইতিহাস, বিশ্বাস ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এবং আজও তা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে জীবন্ত করে রেখেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে এটি এক জীবন্ত সাংস্কৃতিক পাঠশালা হিসেবে বিবেচিত।
মেলাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করেন। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে দিনভর চলা এই ঐতিহ্যবাহী মেলা সন্ধ্যার পর ধীরে ধীরে শেষ হয়।
বলধরার বুড়ির মেলা আবারও প্রমাণ করেছে—সময় যতই বদলাক না কেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি মানুষের টান কখনোই কমে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/