টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক মহাসড়কের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, চলমান কাজের ধীরগতি এবং রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে ভয়াবহ ভোগান্তিতে পড়েছে টাঙ্গাইলের নাগরপুরবাসী। এই দুরবস্থার দ্রুত সমাধান ও সড়ক উন্নয়নকাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে নাগরপুর সরকারি কলেজের সামনে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি ছাড়াও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন—টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক সড়কটি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও রাজধানীমুখী হাজারো মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত পথ। কিন্তু প্রশস্তকরণের লক্ষ্য নিয়ে বহু আগেই রাস্তার দুই পাশের শত শত গাছ কেটে ফেলা হলেও, প্রকল্পের কাজ বছরের পর বছর স্থবির পড়ে আছে। রাস্তার ওপরিভাগ খোঁড়াখুঁড়ি করে অনেক জায়গায় ফেলে রাখায় খানা-খন্দকে ভরা এই সড়ক এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কিছু কিছু স্থানে নামমাত্র কাজ হলেও অধিকাংশ অংশের কাজ বহুদিন ধরে অগ্রগতি নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ—রাস্তাটির এই ভয়াবহ অবস্থার কারণে নাগরপুর থেকে টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জে যাতায়াতে এখন নিত্যদিনের সঙ্গী চরম দুর্ভোগ। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কর্মজীবী নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে পণ্যবাহী যানবাহন সবাইকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে; রাস্তায় জমে থাকা পানি ও গর্তের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
বছরের পর বছর ধরে এ দুরবস্থার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বক্তারা বলেন, “উন্নয়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে কাজ নেই, শুধু প্রতিশ্রুতিই শুনে যাচ্ছি।”
মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার, উন্নয়ন এবং প্রশস্তকরণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন। তারা আরও বলেন, এই সড়কটির কাজ শেষ না হলে নাগরপুর অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্তই থেকে যাবে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন—ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ নাগরপুর শাখার সভাপতি মো. বাবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মুফতি আল-আমিন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মো. রানা হাসান, কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সিএনজি ও অটোরিকশা শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ হাজারো স্থানীয় মানুষ।
বক্তারা একযোগে বলেন—“জীবন-জীবিকার স্বার্থে টাঙ্গাইল-আরিচা সড়কের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতেই হবে, নইলে বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”
https://slotbet.online/