ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে বাগেরহাটের ৪টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী সমীকরণ চূড়ান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু আনছান নিশ্চিত করেছেন যে, তিনটি আসন থেকে মোট ৬ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এর ফলে বর্তমানে জেলার ৪টি আসনে চূড়ান্তভাবে ২৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তবে এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জেলার সবকটি আসনেই বিএনপির দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে ভোটের মাঠে অনড় রয়েছেন, যা নির্বাচনী লড়াইকে বহুমাত্রিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন প্রত্যাহারকারী প্রার্থীদের মধ্যে বাগেরহাট-১ আসনে রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মো. মমিনুল হক। বাগেরহাট-২ আসন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম. এ. সালামসহ খেলাফত মজলিসের রমিজ উদ্দিন ও বালী নাসের ইকবাল। এছাড়া বাগেরহাট-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. জুলফিকার হোসেন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মো. রহমাতুল্লাহ তাদের মনোনয়ন পত্র তুলে নিয়েছেন।
ভোটের মাঠ বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক এমপি ও সিলভার লাইন গ্রুপের চেয়ারম্যান এম. এ. এইচ. সেলিম একাই তিনটি আসনে (বাগেরহাট-১, ২ ও ৩) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। অন্যদিকে, উপকূলীয় বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা) আসনে জেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা কাজী খাইরুজ্জামান শিপন স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় লড়াইয়ের সমীকরণ বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৪টি আসনেই বিএনপির হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অনড় অবস্থান দলীয় ভোটের মেরুকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, যা বড় দলগুলোর মনোনীত প্রার্থীদের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
https://slotbet.online/