ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলা নিয়ে সংসদীয় আসন ৮১ ছিনাইদহ ১ আসন নামে পরিচিত। এই আসনে রয়েছে ১৪ টা ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা। এই আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৯৭৭ জন। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট মোঃ আসাদুজ্জামান, কাঁচি প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বিকল্প সদস্য ঝিনাইদহ জেলার গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) কর্তৃক মনোনীত বিশিষ্ট সাংবাদিক মোঃ সহিদুল এনাম পল্লব মিয়া, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শৈলকূপা উপজেলা আমির আবু সালেহ মোঃ মতিউর রহমান, লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মনিকা আলম। ইতিমধ্যে এবি পার্টি জামায়াতের সাথে জোট করলেও মাঠে আছে মোঃ মতিয়ার রহমান তাছাড়া ইসলামিক খেলাফত মজলিস মোঃ আসাদুজ্জামান বিএনপিকে সমর্থন করেছে।
ঝিনাইদহ ১ শৈলকূপা আসনের জনসাধারণ বরাবর অসাম্প্রদায়িক। যার কারণে জামায়াত ইসলামী যতই তৎপরতা চালাক না কেন তেমন একটা ভোট নেই। বিগত সংসদ নির্বাচনে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ভোট পেয়েছিল। এই আসনটিতে ৭৫ সালের পর ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে জাসদেব প্রার্থী গোলাম মোস্তফা মশাল প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করে। ১৯৮৬ সালে এই আসনে কামরুজ্জামান নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জয় লাভ করে। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জাসদের দবির উদ্দিন জর্দার এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে আব্দুল ওহাব ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয় লাভ করে। ২০০১ সাল ২০০৮ সাল ২০১৪ সাল ২০১৮ সাল ও সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আব্দুল হাই এই আসন থেকে নির্বাচন করে বিজয় লাভ করে।
এই আসনের জাতীয় পার্টি যতবার নাঙ্গল নিয়ে নির্বাচন করেছে ২০০১ সালে সর্বশেষ ১ হাজারের মতো ভোট পেয়েছিল। এই আসনের প্রতিটা গ্রামে রয়েছে বামপন্থীদের পুরানো নেতাকর্মী আছে। ঝিনাইদহ জেলার ভিতরে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের রিজার্ভ আসন ধরা হয়। এবার এই আসন থেকে বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী রয়েছে মোঃ সহিদুল এনাম পল্লব মিয়া। এই আসনে এবার আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থী নির্বাচন করছে না। তাছাড়া কমিউনিস্ট লীগের প্রার্থী তার যে নির্বাচনী অঙ্গীকার তার মধ্যে প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ উর্ধ্ব কৃষকের সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায় পেনশন ভাতা দিতে হবে। যাহা কৃষকের মাঝে রাজনৈতিক চমক হিসেবে কাজ করছে। প্রতিটা গ্রামের প্রাক্তন কমিউনিস্ট কর্মীরা এই কর্মসূচি অতি সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে যদি এই প্রার্থী সঠিকভাবে তার নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা দাঁড়িয়ে থেকে চালিয়ে যেতে পারে তাহলে তার পক্ষে ব্যাপক ভোট পাওয়ার সম্ভব আছে। এই ক্ষেত্রে কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী মোঃ সহিদুল এনাম পল্লব মিয়া উঠে আসতে পারে ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামানের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রূপে। এক্ষেত্রে জামাত ইসলামের প্রার্থীর আগের থেকে ভোট বেড়েছে তবে সেই ভোট ১৫ থেকে ২০ হাজারের উপরে যাবে না বলে শৈলকুপার রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত। তাছাড়া মাঠে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সোচ্চার প্রচারনা চলছে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি হিসাবে। সে ক্ষেত্রে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক কারণে ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কাঁচি আর ধানের শীষকেই বেছে নেবে।জাতীয় পার্টির প্রার্থীর প্রার্থীর মাঠে তেমন একটা তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তবে সর্বশেষ ফলাফল জানতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে ১২ ই ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন পর্যন্ত। তবে যে যত জল্পনা কল্পনা করুক না কেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট মোঃ আসাদুজ্জামানের ধানের শীষের নিশ্চিত জয় শুধুমাত্র ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে।
https://slotbet.online/