• বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বলধরায় ঐতিহ্যবাহী ‘বুড়ির মেলা’য় মানুষের ঢল গাজীপুরে অভিনব কৌশলে প্রতারণা ‎উল্লাপাড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশংসাপত্র দিতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ বিরলে প্রতিপক্ষের হুমকিতে শান্তিপূর্ণ বসবাসের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা পিরোজপুরে ছাত্রলীগ ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিলেন আতিকুর রহমান খান হৃদয় ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতারক আটক, মোবাইল কোর্টে কারাদণ্ড ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে বিএনপি প্রার্থীকে হুমকি: আইন ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রশ্ন সুন্দরবনে ৩ হরিণ শিকারি আটক, ৬০০ ফুট ফাঁদ ও ট্রলার জব্দ বিরলে শীতার্তদের মাঝে এসিআই ক্রপ কেয়ার এর শীতবস্ত্র বিতরণ উল্লাপাড়ায় জনপ্রিয় হচ্ছে কালোজিরা চাষ!

বলধরায় ঐতিহ্যবাহী ‘বুড়ির মেলা’য় মানুষের ঢল

মো: রেজাউল করিম / ৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬

পৌষ সংক্রান্তির দিনে গ্রামবাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বুকে ধারণ করে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বলধরা গ্রামে বসেছে বহুল পরিচিত ঐতিহ্যবাহী বুড়ির মেলা।
বুধবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ইং সকাল থেকে দিনভর এই মেলাকে ঘিরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
শীতের নরম রোদ আর কুয়াশা ভেজা সকালে ভোর থেকেই মেলার প্রস্তুতি শুরু হয়। সকাল গড়াতেই বলধরা গ্রামসহ আশপাশের ইউনিয়ন, উপজেলা এবং দূর–দূরান্তের গ্রাম ও শহর থেকে দলে দলে মানুষ মেলায় আসতে থাকে। শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস, তরুণদের কৌতূহল ও বয়োজ্যেষ্ঠদের স্মৃতিমাখা আবেগে মেলাটি পরিণত হয় এক বিশাল সামাজিক মিলনমেলায়।
মেলাজুড়ে দেখা যায় গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী পণ্যের সমাহার। মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, কলসি ও খেলনা, বাঁশ ও কাঠের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, কাঁসা-পিতলের বাসন, দেশীয় কাপড়, কৃষিজ উপকরণ ও বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্পের দোকানে ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। এসব পণ্য ঘিরে স্থানীয় কারিগর ও বিক্রেতাদের মুখে ছিল স্বস্তির হাসি।
বুড়ির মেলার অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল দেশীয় খাবার ও পিঠা-পুলি। চিতই, ভাপা, পাটিসাপটা, তিলের পিঠা, নাড়ু, মুড়ি-মুড়কি ও নানা ধরনের মিষ্টান্নের দোকানগুলোতে সারাক্ষণই লেগে ছিল ভিড়। অনেক দর্শনার্থী জানান, এই মেলার খাবারের স্বাদে মিশে আছে শৈশবের স্মৃতি ও গ্রামবাংলার নিজস্ব ঘ্রাণ।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, বুড়ির মেলা শুধু কেনাবেচার স্থান নয়; এটি এলাকার ইতিহাস, বিশ্বাস ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এবং আজও তা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে জীবন্ত করে রেখেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে এটি এক জীবন্ত সাংস্কৃতিক পাঠশালা হিসেবে বিবেচিত।
মেলাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করেন। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে দিনভর চলা এই ঐতিহ্যবাহী মেলা সন্ধ্যার পর ধীরে ধীরে শেষ হয়।
বলধরার বুড়ির মেলা আবারও প্রমাণ করেছে—সময় যতই বদলাক না কেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি মানুষের টান কখনোই কমে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/