• সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নেছারাবাদে বন্ধুকে মাথাবিচ্ছিন্ন করে হত্যা গ্রেপ্তার ২ জমকালো আয়োজনে দৈনিক কুমিল্লা প্রতিদিন ও পেশাজীবী সাংবাদিক সোসাইটির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির ১ম বৈঠক অনুষ্ঠিত পাটের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম কৃষকদল নেতার মৃত্যু: ঝিনাইদহে লাশ নিয়ে বিএনপির বিক্ষোভ, স্ট্রোকের দাবি জামায়াতের বিরলে ০৮ নং ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ছাত্রনেতার যৌথ উদ্যোগে ৫০০ দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ সখীপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলার আসামি অন্তর আহমেদ গ্রেপ্তার বিরল উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপি’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় দুই যুবকের মৃত্যু সখিপুর টাইগার ক্লাব আয়োজিত ইফতার ও দ্বি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে বিএনপি প্রার্থীকে হুমকি: আইন ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ৬৭ Time View
Update : বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬

মানিকগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতাকে ‘বহিরাগত’ ও ‘রোহিঙ্গা’ আখ্যা দিয়ে প্রতিহত করার হুমকি দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আতার ভাতিজি জামাই জাহাঙ্গীর হোসেন। একই সঙ্গে মনোনয়নপত্র বাতিলের ঘটনায় আফরোজা খানম রিতাকে জড়িয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধি ও প্রচলিত আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

গত ১২ জানুয়ারি রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আতার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় জাহাঙ্গীর এসব বক্তব্য দেন। এসময় সতন্ত্র প্রার্থী আতা পাশেই ছিলেন। ওই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়।

ভিডিওতে জাহাঙ্গীরকে বলতে শোনা যায়, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের ‘বহিরাগত’ আফরোজা খানম রিতা তাঁর একক আধিপত্য ব্যবহার করে আতাউর রহমান আতার মনোনয়ন বাতিল করিয়েছিলেন। পরে তিনি বলেন, “কোন বহিরাগত, কোন রোহিঙ্গার জায়গা মানিকগঞ্জে হবে না।”

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আতার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছিলেন মানিকগঞ্জ জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা। এটি ছিল একটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও আইনগত সিদ্ধান্ত।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO), ১৯৭২ অনুযায়ী—
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও গ্রহণ বা বাতিলের একক ক্ষমতা রিটার্নিং কর্মকর্তার। ফলে কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের পক্ষে অন্য প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই।

এছাড়া বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করার এখতিয়ার রয়েছে নির্বাচন কমিশনে, যা আতাউর রহমান আতা করেছেন এবং কমিশন পরবর্তীতে তাঁর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে। এই প্রেক্ষাপটে আফরোজা খানম রিতাকে মনোনয়ন বাতিলের জন্য দায়ী করা আইনগতভাবে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা ও তাঁর সমর্থকদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য সরাসরি হুমকি, যা ভোটারদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে একজন নারী প্রার্থীকে ‘রোহিঙ্গা’ আখ্যা দেওয়া অসদাচরণ, মানহানিকর ও ঘৃণাত্মক বক্তব্য। তাঁদের দাবি, এটি নির্বাচনী মাঠে সহিংসতা উসকে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO), ১৯৭২ অনুযায়ী—
ধারা ৭৩ ও ৭৪ এ বলা হয়েছে, ভয়ভীতি, হুমকি বা প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ভোটার বা প্রার্থীকে বাধাগ্রস্ত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ধারা ৯০বি’ তে বলা হয়েছে, নির্বাচনী অপরাধে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

নির্বাচনী আচরণবিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী—
কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ অন্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত, বিদ্বেষমূলক, মানহানিকর বা উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে পারবেন না। মিথ্যা তথ্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রচার গুরুতর আচরণবিধি লঙ্ঘন।

এছাড়া, কাউকে অপমান বা গালি হিসেবে ‘রোহিঙ্গা’ আখ্যা দেওয়া কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়; এটি জাতিগত ও নৃতাত্ত্বিক বিদ্বেষমূলক বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কারণ, রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সরকারের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন, নির্যাতন ও জাতিগত সহিংসতার শিকার হয়ে নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। ফলে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি গালিস্বরূপ ব্যবহার করা ওই জনগোষ্ঠীর প্রতি অবমাননা ও বিদ্বেষ প্রকাশের শামিল।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে এ ধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী— ধারা ৫০০: কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে মানহানিকর ও অপমানজনক বক্তব্য দিলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ধারা ৫০৫(১): এমন বক্তব্য বা প্রচার যা জনমনে ভয়, আতঙ্ক বা শত্রুতা সৃষ্টি করে—তা অপরাধ হিসেবে গণ্য।

এছাড়া, নির্বাচনকালীন প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে।

আইনজ্ঞরা বলছেন, কোনো প্রার্থীকে ‘রোহিঙ্গা’ আখ্যা দিয়ে আক্রমণ করা একদিকে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সম্মানহানি করে, অন্যদিকে আশ্রয়প্রাপ্ত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকেও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে। এটি মানবাধিকার পরিপন্থী এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক, যেখানে শরণার্থী ও নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর প্রতি ঘৃণা বা বিদ্বেষ উসকে দেওয়া নিষিদ্ধ।

নির্বাচন বিশ্লেষক ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
“নির্বাচনের সময় কোনো প্রার্থীর নাগরিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এতে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও সহিংসতার ঝুঁকি বাড়ে।”

তাঁদের মতে, বক্তব্যদাতা সরাসরি প্রার্থী না হলেও তিনি যদি প্রার্থীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত থাকেন, তাহলে আচরণবিধির দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

মানিকগঞ্জ-৩ আসনে একজন প্রার্থীকে ‘বহিরাগত’ ও ‘রোহিঙ্গা’ আখ্যা দিয়ে হুমকি দেওয়া এবং মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় তাঁকে জড়িয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার—দুটিই নির্বাচনী আচরণবিধি ও আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্বাচন মানে মতের প্রতিযোগিতা, অপপ্রচার ও ভয়ভীতির রাজনীতি নয়। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নির্বাচন কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/