বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ, এদেশে বিভিন্ন ঋতুতে সাজে বিভিন্ন রুপ।
“মাঠজুড়ে হলুদ ফুল, রোদে ভেজা দিন, মাটির বুকে স্বপ্ন ফেরে, কৃষকের চোখে চিন।”এই ছন্দের মতোই বাস্তব চিত্র এখন হরিপুর উপজেলার মাঠজুড়ে। শীতের নরম রোদে বিস্তীর্ণ ফসলি জমিন ঢেকে গেছে সরিষার হলুদ ফুলে। দিগন্তজোড়া মাঠে বাতাসে দুলছে সরিষা গাছ, ফুলের ফাঁকে ফাঁকে মৌমাছির গুঞ্জনে যেন নতুন প্রাণ পেয়েছে গোটা জনপদ। প্রকৃতির এই অপূর্ব দৃশ্যের সঙ্গে মিলেছে কৃষকের মুখে প্রশান্তির হাসি এ শুধু সৌন্দর্যের গল্প নয়, বরং সম্ভাব্য লাভের আশাবাদ।
একসময় লোকসানের কারণে সরিষা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছিলেন হরিপুর উপজেলার অনেক কৃষক। কিন্তু গত মৌসুমে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় আবারও সরিষা চাষে ফিরেছেন তারা। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের সক্রিয় সহযোগিতায় বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা।
এবছর সরিষার চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪২শ’ হেক্টর কিন্তু তা ছড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর।
গত বছর আবাদ হয়েছিল ৩ হাজার ৪৭০ হেক্টর। গত বছর কে ছাড়িয়ে এ বছর বেশি আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৪৮০ হেক্টর
সরেজমিনে হরিপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা যায়—মাঠের পর মাঠ যেন হলুদের গালিচা। মৌমাছিরা ব্যস্ত মধু আহরণে, আর কৃষকের চোখে-মুখে ভবিষ্যৎ লাভের আশা স্পষ্ট।
কৃষক আলম জানান, দুই বিঘা জমিতে উন্নত জাতের সরিষা চাষে তার প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। গাছের বৃদ্ধি ও ফুলের অবস্থা দেখে তিনি আশাবাদী—এবার ফলন ভালো হবে এবং লাভও মিলবে।
বহতি গ্রামের কৃষক হাবিবুর বলেন, সরিষা চাষে ঝুঁকি তুলনামূলক কম এবং বাজারে এর চাহিদা সবসময় ভালো। তাই প্রতি মৌসুমেই তিনি সরিষা চাষ করেন।
কৃষক মতালেব হোসেন বলেন, উন্নত জাতের সরিষা চাষের ফলে জমির উর্বরতা বাড়ছে এবং পরবর্তী বোরো মৌসুমে সারের খরচ কম লাগছে। এতে একই জমিতে দ্বিগুণ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।
টেংরিয়া গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, নতুন করে উন্নত জাতের বীজ নিয়ে আবাদ করেছেন তিনি। গাছের অবস্থা দেখে ধারণা করছেন, এবার ফলন আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হতে পারে
তিনি আরও বলেন, ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরিষা আবাদ বাড়ানো সময়ের দাবি। কৃষি বিভাগের সহায়তা ও অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে হরিপুরে সরিষা চাষ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে
https://slotbet.online/