ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিসে কর্মরত পিয়ন আক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অনিয়ম, ব্যাপক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একই অফিসে অবস্থান করে তিনি এমন এক ‘একচ্ছত্র সাম্রাজ্য’ গড়ে তুলেছেন যে, তাকে কেন্দ্র করে ইউএনও অফিস যেন ব্যক্তিগত দখলদারিত্বের জায়গায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে-সরকারি কর্মচারী হয়েও পিয়ন আক্তার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারের ভূমিকা পালন করছেন। সরকারি মালামাল ক্রয়, কাজের তদারকি থেকে শুরু করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ-সব জায়গাতেই তিনি নিজের প্রভাব খাটিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে জানা গেছে।
এমনকি আশির দশকে নির্মিত সরকারি ডরমেটরির ছাদ ঢালাই, শিল্পকলা একাডেমির পুরাতন ভবন সংস্কার এবং ইউএনও’র বাসভবন মেরামতের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থের অপব্যবহারের কথাও উঠে এসেছে অভিযোগে। পুকুর ঘাট, বাউন্ডারি ওয়ালসহ আরও সরকারি কাজে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
যদিও আক্তার হোসেনের আসল পোস্টিং ১০ নম্বর বগুড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে, কিন্তু সেখানে তিনি একদিনও দায়িত্ব পালন করেননি। বিভিন্ন সময়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে তিনি বছরের পর বছর ইউএনও অফিসেই নিজের প্রভাব বিস্তার করে গেছেন। এমনকি এক ইউএনও তাকে বদলি করলেও পরবর্তীতে সাবেক এমপি আব্দুল হাইয়ের প্রভাব খাটিয়ে আবারও একই পদে ফিরে আসেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আক্তার শুধু নিজেই নয়, স্ত্রী মরিয়ম বেগমকেও একই অফিসে প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করিয়ে আসছেন। অফিসের কোনো কাজ না করলেও দম্পতির দাপটে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। অভিযোগ আছে, অফিসের কনফারেন্স রুম ও চেয়ারম্যানের বিশ্রামকক্ষে এসি চালিয়ে ব্যক্তিগত সময় কাটানো তাদের জন্য নিত্য ঘটনা।
অভিযোগকারীরা বলছেন, “একজন পিয়ন কীভাবে বছরের পর বছর ধরে কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ করবে? এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো শক্তিশালী মহলের প্রভাব রয়েছে।”
শৈলকুপা এলাকার সচেতন মহল দাবি তুলেছে-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত পিয়ন আক্তার হোসেনকে অবিলম্বে বদলি করে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা মনে করেন, এই প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা রোধ করতে হলে প্রকৃতপক্ষে একটি নিরপেক্ষ তদন্তই পারে সত্য উন্মোচন করতে।
https://slotbet.online/