উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে চলতি মৌসুমে সুপারির ব্যাপক ফলন হয়েছে, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি করেছে; জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আবহাওয়া অনুকূল থাকা এবং বর্ষার শেষে বেশি বৃষ্টিপাত ও মাটি ও পানির লবণাক্ততা হ্রাস পাওয়ায় এই বাম্পার ফলন সম্ভব হয়েছে, যা দীর্ঘকাল ধরে লবণাক্ততার কারণে সংকটে থাকা বাগান মালিক ও তাদের পরিবারে স্বস্তি এনে দিয়েছে। জেলায় মোট ৩,৯৬০ হেক্টর জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছে এবং চলতি বছরের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২৮,৯৯০ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে (যা গত বছরের ২৬,৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনের চেয়ে বেশি), যার ৬৫ শতাংশ ইতোমধ্যে সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে এবং অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা রয়েছে। সুপারি আবাদের ক্ষেত্রে বাগেরহাট সদর উপজেলা (১,২০০ হেক্টর) শীর্ষে রয়েছে, এরপর কচুয়া (১,১৫৩ হেক্টর) এবং মোরেলগঞ্জ (৭৫০ হেক্টর) উল্লেখযোগ্য; অন্যান্য উপজেলাগুলির মধ্যে রয়েছে শরণখোলা (৩০০ হেক্টর), ফকিরহাট (২৫০ হেক্টর), চিতলমারি (১২০ হেক্টর), রামপাল (১২২ হেক্টর), মোল্লাহাট (৬০ হেক্টর) এবং মোংলা (৩ হেক্টর)। চাষিরা বাজারে সুপারির আশানুরূপ দাম পাওয়ায় খুশি, যেখানে বাগেরহাট দরগাহ, যাত্রাপুর হাট, কচুয়া বাজারসহ বিভিন্ন হাটে এক কুড়ি সুপারি (২৩১ বা ২৬৪টি) গড়ে ৪০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়। বাগেরহাটের উৎপাদিত মানসম্মত সুপারি পাইকারি দরে কিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়, এবং পান-পাতার সঙ্গে সারা বছরই এর কদর থাকে; জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ নারকেল গবেষণা কেন্দ্র উদ্ভাবিত উন্নত জাতের সুপারি এখন কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিবেশ অনুকূল থাকায় ফলন বাড়ছে। কৃষি কর্মকর্তারা মনে করেন, কৃষকেরা ভালো মূল্য পেলে সুপারি বাগেরহাটের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে অন্যতম লাভজনক অর্থকরী ফসলে পরিণত হবে।
https://slotbet.online/