আবু বক্কর সিদ্দিক স্বপন, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:ঝিনাইদহ শহরের গোপিনাথপুর গ্রামে কাঠের দোকানের ভেতর থেকে গৃহবধূ তাসলিমা খাতুনের (৪০) লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জট খুলেছে। হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতক স্বামী মো. লাল মিয়াকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ জানায়, গত ১২ অক্টোবর (২০২৫) ঝিনাইদহ পৌরসভার গোপিনাথপুর গ্রামের হাইওয়ে সড়কের পাশে লাল মিয়ার কাঠের দোকানের ভেতর চৌকির নিচে লুকানো অবস্থায় এক নারীর চুল দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে চৌকির নিচ থেকে মুখ ও গলায় পুরাতন টাই বাঁধা অবস্থায় গৃহবধূ তাসলিমা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. কিশোর রাজন (২১) বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। (মামলা নং–১১, তারিখ: ১৩/১০/২০২৫ ইং; ধারা–৩০২/৩৪/২০১ দণ্ডবিধি)। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই (নিঃ) রাজিব আলীর ওপর।
ঘটনাটি প্রকাশের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামি গ্রেফতারের নির্দেশ দেন সদর থানা পুলিশ ও সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলকে।
পুলিশের প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তৎপরতায় অবশেষে ১৪ অক্টোবর রাতে হরিণাকুন্ডু থানার চাঁদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার মূল আসামি ও ভিকটিমের স্বামী মো. লাল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাল মিয়া স্বীকার করে, পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী তাসলিমা খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে কাঠের দোকানের ভেতর চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখে। এরপর স্ত্রী’র ব্যবহৃত স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল নিয়ে পালিয়ে যায়।
আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নিহতের স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করেছে পুলিশ। কানের দুল উদ্ধারের অভিযান চলছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ।
https://slotbet.online/