বেনাপোল চেকপোষ্টে পাসপোর্টযাত্রী হয়রানির মাত্রা ব্যাপক ভাবে বেড়ে যাওয়ায় পাসপোর্ট যাত্রী দিনে দিনে শুন্যের কোটায় নেমে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে চেকপোষ্ট কাস্টমস কর্মকর্তাদের উপর। বিগত আওয়ামী সরকারের দোসর কাস্টমস সুপার জাহাঙীর আলম রাজস্ব আয়ে ধ্বস নামাতে বর্তমান সরকারকে বিপাকে ফেলতে এই হয়রানির পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পাসপোর্টযাত্রীরা। এবং প্রধান উপদেষ্টার কাছে সমাধানের জন্য ও তারা দাবি জানান।
বেনাপোলের পাসপোর্টযাত্রী ওলিয়ার রহমান (পাসপোর্ট নং এ ০৯৪৩৫৯৯৫৫) বলেন বেনাপোল চেকপোষ্টে কাস্টমস সুপার বিগত আওয়ামী সরকারের সময় থেকে আছে। সে সরকারী কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে একের পর এক যাত্রীদের হয়রানি করে যাচ্ছে। ল্যাগেজ সুবিধা পাওয়া পণ্য সামগ্রী ও রেখে দিয়ে যাত্রীদের ভারত কেন যায় তার জন্য হুমকি প্রদান করেছে। ওলিয়ার বলেন সে বিজনেস ভিসায় ভারত যায় এবং সেখান থেকে সে গত ১৭/০৯/২৫ তারিখে দেশে ফিরি। কিন্তু বেনাপোল কাস্টমসে আসলে তারা আমার আত্নীয় স্বজনের জন্য ক্রয়কৃত ৮ টি শাড়ি ও ৮ কেজি বিভিন্ন ধরনের কসমেটিক্স পণ্য রেখে দিয়ে স্লিপ ধরিয়ে দেয়। আমি নিয়ম অনুযায়ী ৪০ কেজি পণ্য পাব। সেখানে আমার কাছে মাত্র ১৬ কেজি পণ্য ছিল। বিষয়টি সুপার জাহাঙীরকে বুঝাতে চেষ্টা করলে তিনি বিজিবি, এপিবিএন পুলিশ ও আনছার বাহিনীর সদস্যদের কাস্টমস স্কানিং রুমে ডেকে আনে আমাকে বের করে দেওয়ার জন্য। এসময় ওই সব বাহিনী আমার যুক্তিতর্ক দেখে চুপ করে থাকে। আমি মাত্র দুইবার ইন্ডিয়ায় গিয়েছি। সে অনুযায়ী আমি ৪০০ শত মার্কিন ডলার এর পণ্য বহন করতে পারব বলে কাস্টমস ম্যানুয়ালে আছে। কিন্তু জাহাঙীর কোন রুলস মেন্টেইন না করে পণ্য রেখে দিয়ে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং সরকারের বাৎসরিক বিলিয়মন মিলিয়ন ডলারের রাজস্ব ঘাটতি দেখাচ্ছে। তিনি বলেন আমি প্রধান উপদেষ্টার কাছে মিনতি করি তিনি যেন পত্রিকা মারফত বেনাপোল চেকপোষ্ট সম্পর্কে অবগত হয়ে সু-ব্যাবস্থা নেন।
যশোরের বেনাপোল এলাকার পাসপোর্ট যাত্রী মিলন হোসেন ( পাসপোর্ট নং এ ০৯৪৩৭৭৮০) বলেন, বেনাপোল চেকপোষ্ট কাস্টমস সুপার জাহাঙীর এর জন্য এ পথে যাত্রী কমে গেছে। যাত্রীদের সাথে সে খারাপ আচারন তাদের আনিত পণ্য রেখে দেওয়ায় এ পথে যাত্রী কমে সরকার ও রাজস্ব হারাচ্ছে। মিলন আরো বলেন, সে নিজেই এর ভুক্তভোগি। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে ফেরার পথে বেনাপোল কাস্টমস তার ল্যাগেজ সুবিধার মধ্যে থাকা পণ্য রেখে দিয়ে ভারত যেন আর না যাই বলে হুমকি দেয়। তিনি বলেন আমার ল্যাগেজ সুবিধার মধ্যে থাকা শাড়ী ও কসমেটিক্স পণ্য রেখে দেয়। আমি ফেরত চাইলে আমাকে কাস্টমস থেকে জোর করে বের করে দেয়। এভাবে তার মত যাত্রীদের হয়রানির কারনে এ পথে যাত্রী কমে গেছে। এই সুপার জাহাঙীর এর নামে এর আগে যশোর আদালতে একজন নারী বাদি হয়ে মামলা করে। তিনি বলেন পতিত শ্বৈরাচার হাসিনা সরকারের দোসর ও ছাত্রলীগ থেকে আসা জাহাঙীর বর্তমান সরকারকে বিপাকে ফেলার জন্য ইচ্ছা খেয়াল খুশিমত কাজ করে যাচ্ছে। এর আগে হাসিনা সরকারের আমলে সে ইচ্ছামত ঘুষ বানিজ্য করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
রনি নামে স্থানীয় এক ব্যাক্তি বলেন, আগে এ পথে অনেক যাত্রী যাতায়াত করত। ভারত ভিসা বন্ধ করায় যাত্রী সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তারপর আবার সুপার জাহাঙীর এর হয়রানির কারনে যাত্রি আসা যাওয়া একেবারে শুন্যের কোটায় এসেছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা চরম খারাপ হবে। কারন প্রতিদিন যাত্রীদের নিকট থেকে এর আগে প্রায় ১ কোটি টাকা আয় হত।
বেনাপোল চেকপোষ্ট সোনালী ব্যাংক সুত্র জানায় আগের মত যাত্রী চলাচল না থাকায় এখন আর আগের মত রাজস্ব আদায় হয় না। অনেক যাত্রী কমে গেছে।
এ বিষয় জানার জন্য জাহাঙীর হোসেনকে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।
https://slotbet.online/