বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন বা বিআরটিসি একটি নাম, একটি ব্রান্ড। মূলত বিআরটিসি সরকারের একটি বৃহৎ সেবামূলক খাত। এই সেবা খাতকে জনগণের সেবায় নিয়োজিত করা হয়েছে বিভিন্ন বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে। যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিপো পাবনা বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। আর এই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিপোটির সুদক্ষ ম্যানেজার বিআরটিসির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রকৌশলী ডিজিএম জনাব মনিরুজ্জামান বাবু।
তবে দুঃখের বিষয় বিআরটিসির সৎ, দক্ষ ও যোগ্য অফিসার, পাবনা ডিপোর কর্নধার ডিজিএম, পিএন্ডএস, প্রকৌশলী জনাব মনিরুজ্জামান বাবু’কে নিয়ে একটি কুচক্রী মহল লিপ্ত হয়েছে গভীর ষড়যন্ত্রে। এমনকি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসত্য ও বানোয়াট তথ্যের সংমিশ্রণে নামমাত্র সংবাদও প্রকাশ করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে জনাব মনিরুজ্জামান বাবুর সুনাম ও সম্মান নষ্ট করতে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সেই ষড়যন্ত্র তিব্র আকার রূপ নিয়েছে। এমনকি মনিরুজ্জামান বাবুর আওয়ামীলীগের সাথে সখ্যতা ছিল বলেও কুৎসা রটনা করা হচ্ছে। তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে এমন কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি।
১৯৬১ সালে এক সরকারি অধ্যাদেশ জারীর মাধ্যমে ৪ ফেব্রুয়ারি বিআরটিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তৎকালীন ইপিআরটিসি বাস ডিপোতে প্রথম দোতলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে যা বর্তমানে বিআরটিসি।
কালের ধারাবাহিকতায় ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পাবনা ডিপো। ডিপোটির বর্তমান সুদক্ষ ইউনিট প্রধান ডিজিএম, পিএন্ডএস, প্রকৌশলী জনাব মোঃ মনিরুজ্জামান বাবুর সুদক্ষ পরিচালনায় নতুনভাবে এগিয়ে চলেছে পাবনা ডিপোটি। সেখানে ২.০৫ একর যায়গা জুড়ে রয়েছে বিশাল একটি মাঠ। যেখানে প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন সহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অবশ্য এই উন্নয়নের ধারা খুব বেশি দিনের নয়। কারণ কিছুদিন পূর্বেও বিআরটিসি মানেই তলাবিহীন ঝুড়ি, অপুষ্টিতে ভোগা, রুগ্ন-সুগ্ন, জরাজীর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান ছিলো। যার চেহারা পাল্টে দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও মনিরুজ্জামান বাবুর সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
চেয়ারম্যানের অভিভাবক সুলভ নির্দেশনায় সুদক্ষ ইউনিট প্রধান প্রকৌশলী জনাব মনিরুজ্জামান কাজ করে চলেছেন পরিচ্ছন্ন ধারায়। যার প্রমাণ বর্তমানের অত্যাধুনিক পাবনা বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। সেইসাথে প্রতিমাসের শুরুতেই বেতন-ভাতা, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, বিশেষ প্রয়োজনে কল্যান তহবিল থেকে সাহায্য এক অনন্য নজির স্থাপিত হয়েছে।
একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আধুনিক ডিপোতে পরিণত হতে সবই রয়েছে সেখানে। প্রশাসনিক ভবন, আধুনিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও ডিজিটাল ক্লাসরুম, ওয়ার্কিং শেড, ইয়ার্ড, কারিগরদের সেইফটি বক্স, পোশাক, সহ কোনো কমতি নেই ডিপোতে। তাছাড়া সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর মাধ্যমে দারুণ এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে সেখানে।
পাবনার গুরুত্বপূর্ণ এই ডিপোটিতে সুদীর্ঘ কারিগরি ওয়ার্কিং শেড নির্মাণ করে তৈরি হয়েছে সুন্দর এক কর্মপরিবেশ। বৃষ্টি হলেও এখন কারিগররা একসাথে অন্তত ১৫ থেকে ২০ টির অধিক গাড়ির মেরামত কাজ করতে পারেন।
২০০৫ সালে ডিপোতে যুক্ত হয় অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ৪২টি বাস নিয়মিতভাবে যাত্রী সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সেইসাথে ৪ টি প্রশিক্ষণ কার, ১টি প্রশিক্ষণ পিকাপ, ১টি প্রশিক্ষণ ট্রাকের মাধ্যমে নিয়মিত চলছে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ডিজিএম, পিএন্ডএস, প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান বাবু পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার। তাই কারিগর, চালকদের দক্ষতা অর্জনে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার প্রদানের রেওয়াজও বিদ্যমান রেখেছেন তিনি।
এখন প্রশ্ন- এতোকিছু করার পরও কেনো তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলমান ? আর এই প্রশ্নের উত্তর দেন স্বয়ং ডিপোটির স্টাফরাই। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে অনেকে বলেন, ‘বাবু স্যার শুরু থেকেই আমাদের জন্য অনেক করেছেন। এই ডিপোর চেহারা উনি পাল্টে দিয়েছেন। শুধু এখানেই নয়, বাবু স্যার যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছেন সেখানেই তিনি উন্নয়নে আমুল পরিবর্তন এনেছেন। অথচ কিছু অসাধু লোক তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে বিভিন্ন মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে। এটা সত্যিই দুঃখজনক। স্যার কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নয়। সরকারের আমলা হিসেবে সবার সাথে সুসম্পর্ক থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে তাকে আওয়ামিলীগ ট্যাগ দিবে, এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।’
ইতোপূর্বেকার ডিপোতে অপবাদ ও আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানতে চাই আমরা। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ সুদক্ষ ডিজিএম, পিএন্ডএস, প্রকৌশলী জনাব মোঃ মনিরুজ্জামান বাবু বেশ সহজভাবেই উত্তর দেন। তিনি বলেন, “আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। সরকারের আদেশ মোতাবেক জনগণকে সেবা দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। সেক্ষেত্রে কোন সরকার ক্ষমতায় আসলো কিংবা চলে গেলো তা আমাদের দেখার বিষয় নয়। দায়িত্বের সুবাদে এদেশের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কর্মময় সুসম্পর্ক রক্ষায় আমরা বাধ্য। আর সেটাকে কেউ যদি দলীয় পরিচয় প্রদানের অপচেষ্টা করে, তাহলে সত্যিই বিষয়টি দুঃখের।”
অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করে জনাব মনিরুজ্জামান বাবু বলেন, “এইতো কিছুদিন আগেও দেশের প্রতিটি অফিসে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি টানানো বাধ্যতামূলক ছিলো। অথচ এখন কোনো অফিসে সে-সব ছবি নেই। তাহলে কি আমরা সবাইকে ওই ছবি দিয়ে বিচার করতে পারি ? সত্যি কথা বলতে- আমার পরিশ্রম ও উন্নতি দেখে হয়তো অনেকেরই হিংসা হচ্ছে। তবে আমি কারো অপতৎপরতায় দৃষ্টিপাত না করে বিআরটিসির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছি। কোনো ষড়যন্ত্রে আমি বিন্দুমাত্র বিচলিত নই। কারণ আমি আমার কর্ম জীবনে কোনো ধরনের অনৈতিক কাজের পক্ষে কখনোই ছিলাম না এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমি জড়িত নই। তাই কুচক্রী মহল যা করছে করুক। আমার কর্মই আমার পরিচয়।”
কর্মজীবনের শুরুতে বিআরটিসি স্টাফদের নিদারুণ কষ্টের কথা বলতে ভুলে যান নি মনিরুজ্জামান। হয়তো সেই দৃশ্যই তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় একজন মানবিক দায়িত্বশীলের কথা। প্রতিটি ইউনিটে দায়িত্ব পালনকালে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর সুখ, দুঃখ, সহযোগিতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন জনাব মনিরুজ্জামান বাবু।
https://slotbet.online/