ঠাকুরগাঁওয়ের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জেবায়দুর রহমান হত্যা মামলার রায় দীর্ঘ ১১ বছর পর ঘোষণা করেছেন আদালত ।
বৃহস্পতিবার ১৪- ই আগস্ট দুপুরে সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে হত্যা মামলার অভিযুক্ত ১২৩ জন আসামির উপস্থিতিতে সবাইকে নির্দোষ খালাস দিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সমরেশ শীল।
২০১৪ সালের ৫-ই জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত হন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জেবায়দুর রহমান। আর এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় দায়ের করা হয়েছিল একটি হত্যা মামলা। যেখানে ১২৩ জনের নাম উল্লেখ্যসহ আরো প্রায় ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ছেপড়িকুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জেবায়দুর রহমান ভোটের আগের রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
আর এই ঘটনার পর পুলিশ কনস্টেবল জাহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে বিএনপির স্থানীয় ১২৩ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও প্রায় ২০০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই বছরের আগস্ট মাসে সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মান্নান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলায় মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
মামলার দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সমরেশ শীল এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে আদালত সকল আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
রায়ের পর ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল হালিম সন্তোষ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, “ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১১ বছর ধরে আসামিরা মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করছিলেন। আজ তারা মুক্তি পেলেন।” এটি ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক মামলা। আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপির নেতাকর্মীদের দমিয়ে রাখার জন্য মিথ্যা হয়রানি মূলক এই মামলায় জড়িয়ে ছিলেন। কোনো সাক্ষীই অভিযোগের পক্ষে কথা বলেননি, এমনকি বাদীও নয়।
তিনি আরও বলেন, ১১ বছর ধরে আসামিরা হয়রানি ও ঘরছাড়া হয়ে জীবন কাটিয়েছেন। আজকের রায়ে সত্যের জয় হয়েছে।
মামলা থেকে খালাস পাওয়া বিএনপির নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, মূলত পুলিশের গুলিতেই ওই কর্মকর্তা নিহত হন। পরে আওয়ামী লীগ সরকার আমাদের নেতাকর্মীদের ফাঁসিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চেয়েছিল। এই মামলায় প্রায় সবাই মাসের পর মাস জেল খেটেছেন। আজ সত্যের জয় হয়েছে।
https://slotbet.online/