বরগুনা প্রতিনিধি
২৪’র কোটা সংস্কার, থেকে একদফা ও গন অভ্যুত্থান সব জায়গাতেই সরব ছিলো বরগুনার সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
মাত্র ২৬-৩০ জন শুরু করে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ ভাবে নিজেদের দাবী আদায়ে আন্দোলন করেছে। পুলিশি ও ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং আওয়ামীলীগের অতর্কিত হামলায় আহত অর্ধ-শতাধিকের ও অধিক শিক্ষার্থী। শুধু হামলা নয় বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্নভাবে হেনস্তার শিকারও হয়েছেন । সাথী হিসেবে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ এবং এডভোকেট মেহরাব হোসেন অনিকের নেতৃত্বে পাঁচজন তরুণ অ্যাডভোকেট, যারা ছাত্রদের নামে তখন কোন মামলা হলে আদালতে ছাত্রের পক্ষে আইনি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিল। শুধু আন্দোলনেই নয় বরগুনার শিক্ষার্থীরা দাঁড়িয়েছিল বন্যার্তদের পাশে এবং শুরু করেছিলো বিভিন্ন সামাজিক কাজ।
এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ভিতরে শিক্ষার্থীদের মাঝে রেজাউল করিম, মুঈদ হাসান নিলয় ও সানাউল্লাহ রেজা শাদ এবং মীর নিলয় এই তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়।
রেজাউল করিম বরগুনা সরকারি কলেজে ইসলামী ইতিহাস বিভাগে অধ্যায়নরত । তিনি বরগুনায় আন্দোলনের শুরু থেকে শিক্ষার্থীদের সাথে অবস্থান করেন এবং এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সাথে কাজ করে চলেছেন। ১৬ জুলাই পুলিশের হামলায় তিনি আহত হন। এবং বিভিন্ন সময় আওয়ামী পন্থী রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাদের হতে হুমকির শিকার হয়েছেন।
মুঈদ হাসান নিলয় ও সানাউল্লাহ রেজা শাদ গ্রুপে মুঈদ হাসান নিলয় ঢাকা কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে ও সানাউল্লাহ রেজা শাদ বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজে অধ্যায়নরত । সানাউল্লাহ রেজা শাদ ঝড় জলোচ্ছ্বাসে সাহসিকতার সাথে উদ্ধার কাজ, ত্রান বিতরন সহ বিভিন্ন কাজে বাংলাদেশ স্কাউটস হতে ” ন্যাশনাল সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড ” (২০২০) প্রাপ্ত ও বরগুনা সাইন্স সোসাইটির মিডিয়া ও যোগাযোগ দপ্তরের দায়িত্বসহ বরগুনায় বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কাজে ও সংগঠনের যুক্ত এবং বেশ সুনাম রয়েছেন এছাড়াও বরগুনা থিয়েটারের একজন নাট্যকর্মী হিসেবে কাজ করে থাকেন ।
তারা দুজনেই বরগুনার আন্দোলনের প্রথম থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে কাজ করে যাচ্ছে । ১৮ জুলাই বরগুনায় গায়েবানা জানাজায় ছাত্রলীগের হামলায় তারা আহত হয়। আন্দোলন চলাকালীন সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ হতে বিভিন্ন ধরনের হুমকির সম্মুখিন হয়েছেন। তাদের দুজনেরই বরগুনায় বেশ সুনাম ও খ্যাতি রয়েছে।
মীর নিলয় ০২ ও ০৩ আগস্ট সক্রিয়ভাবে বরগুনায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যোগ দেন। এবং এতে করে তিনি বিভিন্নভাবে হুমকির সম্মুখীন হন। এর আগে তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেন এবং বিভিন্নভাবে প্রতিবাদী পোস্ট করে থাকেন । চার আগস্ট তার বাসায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়।
উল্লেখ্য গত ১৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্র ঘোষিত বরগুনা শিল্পকলা একাডেমিতে মতবিনিময় সভায় মীর নিলয় মঞ্চ উঠা কে কেন্দ্র করে মীর নিলয় ও রেজাউল করিম গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং মতবিনিময় সভা পন্ডু হয়ে যায় এতে করে দুই গুরুপেরই কয়েকজন আহত হন।
https://slotbet.online/