স্টাফ রিপোর্টারঃ
দেশের ক্ষুদ্র ঋণ সেক্টরের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দেশের দারিদ্রতা দূরীকরণের একটি যুগ উপযোগী ক্ষুদ্র ঋণ সেক্টর করার লক্ষ্যে সরকার মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি আইন ২০০৬ এর আওতায় “মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এম আর এ) ” প্রতিষ্ঠা করে।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি আইন ২০০৬ এর ধারা ১৫(১)অনুযায়ী এম আর এ সনদ ব্যতীত কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগ নেই এবং একই আইনের ধারা ৩৫(১)(ক) ও ৩৫(১)(খ)অনুযায়ী সনদ বিহীন ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বর্তমানে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে (এম আর এ) সনদ ব্যতীত কিছু প্রতিষ্ঠান বেআইনিভাবে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে অধিক হারে সুদ প্রদানের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকগণের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রকার সঞ্চয় গ্রহণের চেষ্টা করছে। আরও লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, অথরিটি সনদ প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে শাখা অফিস খুলে মেয়াদি আমানত গ্রহণ সহ ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম করার চেষ্টা করছে যা গ্রাহক স্বার্থের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আছে বেআইনিভাবে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। যার মধ্যে অন্যতম সিয়াম সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি। “এম আর এ ” সনদ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোঃ শাহজাহান আলী। প্রতিষ্ঠানটি কালীগঞ্জ পৌর শহরের নতুন বাজারে অবস্থিত। ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার হওয়ার পরেও রহস্যজনকভাবে দ্বিগুণ গতিতে কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। অল্প দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের মালিক যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়ে ফুলে-ফেপে উঠেছে। নতুন বাজারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি। অবৈধ অর্থ ব্যবহার করে বাগিয়ে নিয়েছে “নতুন বাজার” ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের পদ। শহরের প্রাণকেন্দ্র ঢাকালে পাড়াতে চিত্রা নদীর জায়গা অবৈধ ভাবে দখল করে গড়ে তুলেছেন চারতলা বিশিষ্ট আলিশান ভবন। কালিগঞ্জ শহরের আড় পড়াতেও আছে একাধিক বাড়ি। নামে বে-নামে হয়েছেন প্রচুর সম্পদের মালিক। গড়েছেন নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী, ঋণগ্রহীতারা কিস্তি ফেল করলে ক্যাডার বাহিনীর রোষানলে পড়তে হয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রোগ্রামে স্পন্সরের মাধ্যমে রাতারাতি সে আওয়ামী লীগ নেতা ও কালিগঞ্জ আওয়ামী লীগের ডোনার বনে গিয়েছে যার ফলশ্রুতিতে এখন সে অপ্রতিরোধ্য।
সাধারণ জনগণ মনে করছেন “এম আর এ ” সনদ বিহীন এই অবৈধ সমবায় সমিতি এবং তার অবৈধ অর্থ লেনদেনের ফলে সৃষ্ট সন্ত্রাসী কার্যক্রম দ্রুত বন্ধ হওয়া উচিত। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী এই অবৈধ সিয়াম সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির অবৈধ কার্যক্রম সরকার কর্তৃক দ্রুত বন্ধ করে দেয়া উচিত এবং প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোঃ শাহজাহান আলীকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য উপজেলা সমবায় অফিসারের মোবাইল ফোনে কল করলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
https://slotbet.online/