মোহাম্মদ উল্লাহ ভূইয়া (সোহাগ) কুমিল্লার দেবিদ্বারে মা ও ছয় মাস বয়সী ভাতিজিকে হত্যার ঘটনায় আটক ইমন মিয়া (২৯) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৪-এর বিচারক সায়মা শরীফ নিশাতের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়।
জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রাত পৌনে ১০টার দিকে বিচারক ইমন মিয়াকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান।
এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার নিহত পিয়ারা বেগম ও শিশু ইসরাত জাহানের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেলে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়েছে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক বাঁধন দাস।
নিহত পিয়ারা বেগম আটক ইমন মিয়ার মা এবং শিশু ইসরাত জাহান তাঁর বড় ভাই সুজন মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় শিশুটির মা ও ইমনের ভাবি রাবেয়া বেগম গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে ইমন পায়ে গুরুতর আঘাত পান। দীর্ঘ চিকিৎসা ও দুই দফা অস্ত্রোপচারের পরও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হননি। সম্প্রতি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর শারীরিক যন্ত্রণা, বেকারত্ব ও পারিবারিক আর্থিক সংকট নিয়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
গত রোববার রাতে ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তাঁর মা ও ভাবি বাধা দেন। পরদিন সোমবার সকালে ধারালো দা নিয়ে মাকে হত্যার চেষ্টা করেন তিনি। মা পিয়ারা বেগম তাঁকে বাধা দিলে ইমন তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপান। এ সময় শাশুড়িকে রক্ষা করতে রাবেয়া বেগম এগিয়ে এলে তাঁর কোলে থাকা ছয় মাসের শিশু ইসরাতকে কেড়ে নিয়ে মাটিতে আছাড় দেন ইমন। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও শিশুর মৃত্যু হয়। পরে রাবেয়া বেগমকেও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
স্থানীয়রা আহত রাবেয়া বেগমকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা ইমনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে পিবিআই ও সিআইডির পৃথক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে।
দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন সুজন মিয়া বাদী হয়ে ইমন মিয়াকে একমাত্র আসামি করে দেবিদ্বার থানায় মামলা করেছেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২, ৩২৫ ও ৩০৭ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধান সম্পাদক: মুন্সী জামিল উদ্দিন প্রকাশক: মোসা মিতা খাতুন
সরকারি মিডিয়াভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত
২১৯/১,নূরভবন (২য় তলা), ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন নাম্বার : ০১৭১৮৭৫২৯০৯
ইমেইল: dailybanglardoot@gmail.com
সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি।
Copyright © 2026 banglar doot. All rights reserved.