মোঃ কামরুল হাসান লিটন : স্টাফ রিপোর্টার (ময়মনসিংহ): বিদ্যুৎ সংকটে থমকে গেছে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিপাকে মৎস্যচাষি ও কারখানা মালিকরা
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তিপুর ইউনিয়নে যেন বিদ্যুতের জন্য হাহাকার! শাহগঞ্জ বাজার, ভূটিয়ারকোনা বাজার, পাছার বাজার ও নাহড়া বাজার এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময়ই থাকছে না বিদ্যুৎ। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো দিন সারাদিনে মাত্র ১ থেকে ২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে।
এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী, মৎস্যচাষি, কারখানা মালিক, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় থমকে যাচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদন কার্যক্রম।
বন্ধ স-মিল, ওয়েল্ডিং ও কাঠের কারখানা
বিদ্যুৎনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। স-মিল, ওয়েল্ডিং কারখানা, কাঠের কারখানাসহ বিভিন্ন ছোট-বড় প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ না থাকায় নিয়মিত কাজ করা যাচ্ছে না।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় মেশিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন কমে যাচ্ছে, বাড়ছে লোকসান। পাশাপাশি কাজ না থাকায় শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়েও তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা।
মৎস্য খামারে বড় দুশ্চিন্তা
বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছেন স্থানীয় মৎস্যচাষিরা। অচিন্তিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে অসংখ্য মৎস্য খামার। এসব খামারে পানি সরবরাহ, পানি নিষ্কাশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রয়োজন হয় বিদ্যুতের।
কিন্তু দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রয়োজনমতো পানি ব্যবস্থাপনা করতে পারছেন না চাষিরা। ফলে মাছের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
চাষিদের আশঙ্কা, এভাবে বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘায়িত হলে মাছের উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।
‘এভাবে চললে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন’
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কারখানা মালিকদের ভাষ্য, বর্তমান সময়ে বিদ্যুৎ ছাড়া অধিকাংশ উৎপাদনমুখী কাজ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। অথচ দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রতিষ্ঠান চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাদের দাবি, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শুধু ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না—এর প্রভাব পড়ছে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও।
দ্রুত সমাধানের দাবি এলাকাবাসীর
শাহগঞ্জ, ভূটিয়ারকোনা, পাছার ও নাহড়া বাজার এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যার প্রকৃত কারণ দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, মৎস্যচাষি, কারখানা মালিক ও সাধারণ মানুষ সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তাদের দাবি—দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হোক। নইলে চার বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্য, কারখানা ও মৎস্যভিত্তিক অর্থনীতি আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে
প্রধান সম্পাদক: মুন্সী জামিল উদ্দিন প্রকাশক: মোসা মিতা খাতুন
সরকারি মিডিয়াভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত
২১৯/১,নূরভবন (২য় তলা), ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন নাম্বার : ০১৭১৮৭৫২৯০৯
ইমেইল: dailybanglardoot@gmail.com
সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি।
Copyright © 2026 banglar doot. All rights reserved.