মোহাম্মদ উল্লাহ ভূইয়া (সোহাগ) কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ৩ নম্বর ছোটশালঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় "স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ"-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা অভিযোগ করেন, দেবিদ্বার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি আলম হাজারী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান হাজারীর নির্দেশে তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাদ্দাম মুন্সী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খাবারের লোভ দেখিয়ে রাজনৈতিক স্লোগান দিতে বাধ্য করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচারের দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
বক্তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার স্থান নয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা অনৈতিক, অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি মিজান খান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য মো. সালমান, ছাত্রদল নেতা ইফাত খাঁন ও শাহাদাত খান। এছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দা বুলু মিয়া, মজিবর রহমান খান, তমাল সরকার, রায়হান সরকার, ইদ্রিস সরকার, গাজী মোহন, মো. নাফিস সরকার, হোসাইনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে স্থানীয়রা বলেন, "কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে এ ধরনের রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। যারা শিশুদের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে এমন কাজ করিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।"
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফোরকান অভিযোগ করে বলে, "আমাদের সিঙ্গাড়া-সমুচা খাওয়ানোর কথা বলে 'জয় বাংলা' স্লোগান দিতে বলেছিল। স্লোগান না দিলে মারধরেরও ভয় দেখায়। ভয়ে আমরা তার কথামতো স্লোগান দিই। পরে সে সেই স্লোগানের ভিডিও ধারণ করে।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাদ্দাম মুন্সীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আলম হাজারী বলেন, "সাদ্দামের সঙ্গে গত ছয় মাসেও আমার কোনো যোগাযোগ হয়নি। রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আমাকে এ ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখেই জানতে পেরেছি।"
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, "ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সানজিদা সুলতানা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। অভিযুক্ত সাদ্দামের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। আশা করছি, শিগগিরই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
প্রধান সম্পাদক: মুন্সী জামিল উদ্দিন প্রকাশক: মোসা মিতা খাতুন
সরকারি মিডিয়াভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত
২১৯/১,নূরভবন (২য় তলা), ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন নাম্বার : ০১৭১৮৭৫২৯০৯
ইমেইল: dailybanglardoot@gmail.com
সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি।
Copyright © 2026 banglar doot. All rights reserved.