মোঃ নজরুল ইসলাম খান, স্টাফ রিপোর্টার: তিতাস পাড়ের সর্ববৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে ২৮ জুলাই ২০২৬ খ্রি. জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত আলোচনা সভায় জনাব হাবিবুর রহমান খান এর সভাপতিত্বে এবং মোঃ নাছির উদ্দীনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর এ.কে.এম. ওবায়দুল হক, অধ্যক্ষ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন, উপাধ্যক্ষ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর মোঃ বন্দে আলী, বিভাগীয় প্রধান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ব্রাসক। প্রফেসর মির্জা গালিব রুমি, বিভাগীয় প্রধান, ইতিহাস বিভাগ। প্রফেসর রাখাল গোপ, বিভাগীয় প্রধান , হিসাববিজ্ঞান বিভাগ। প্রফেসর মোঃ আবুল খায়ের ভূঞা, বিভাগীয় প্রধান উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ। জনাব মোঃ জহির উদ্দিন, বিভাগীয় প্রধান ইংরেজি বিভাগ। জনাব মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, বিভাগীয় প্রধান ব্যবস্থাপনা বিভাগ। জনাব তাসমিয়া সুলতানা, বিভাগীয় প্রধান প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগ। জনাব মোহাম্মদ কামাল হোসেন, বিভাগীয় প্রধান গণিত বিভাগ। জনাব মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, বিভাগীয় প্রধান রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ। জনাব মাহমুদুর রহমান ভূঞা, বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ। জনাব আব্দুর রহমান মোল্লা, বিভাগীয় প্রধান, ইসলামের ইতিহাস বিভাগ। জনাব আব্দুল খালেক, বিভাগীয় প্রধান, রসায়ন বিভাগ। জনাব মোহাম্মদ মাইদুল ইসলাম পাঠান প্রমুখ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ।
অধ্যক্ষ মহোদয় বক্তব্যে বলেন-
সম্মানিত সভাপতি, বিশেষ অতিথিবৃন্দ এবং আমার শ্রদ্ধেয় সহকর্মীবৃন্দ— ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আজকের এই আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রথমেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।পরম করুণাময় মহান আল্লাহর নিকট তাঁদের রূহের মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফিরদাউস কামনা করছি।
একই সঙ্গে সকল আহতদের দ্রুত আরোগ্য এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।
এটি সর্বজন বিদিত যে, ইতিহাস কেবল অতীতের ঘটনাবলী নয়; ইতিহাস একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের মূল ভিত্তি। যে জাতি ইতিহাসকে শ্রদ্ধা করে এবং অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে, তারাই অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যায়।
২০২৪-এর জুলাই গণআন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অন্যতম অধ্যায়। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, একটি জাতির ইতিবাচক রূপান্তরে নাগরিকদের সাহস, আত্মত্যাগ এবং অধিকারবোধ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা হলো—জাতির আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সাথে ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও জ্ঞাননির্ভর সমাজ বিনির্মাণে নিরন্তর ও নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাওয়া। আজকের এই আয়োজন কেবল স্মৃতির মন্থন নয়, বরং ভবিষ্যতে নিজ দায়িত্ব পুনর্নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়নে অঙ্গীকার ব্যক্ত করার এক বিশেষ উপলক্ষ।
আমার প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ,
আমরা শিক্ষক। আমাদের হাতে বই, কলম এবং একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ার গুরুদায়িত্ব। পৃথিবীর যেকোনো বড় পরিবর্তনের পেছনে রাজনীতি বা অর্থনীতির ভূমিকা থাকতে পারে, কিন্তু সেই পরিবর্তনের কান্ডারিদের গড়ে তোলেন একজন শিক্ষকই।তাই শিক্ষকতার এই পেশা নিছক কোনো চাকরি নয়; এটি জাতি গঠনের এক পবিত্র অঙ্গীকার।
আমরা শ্রেণিকক্ষে শুধু সিলেবাস শেষ করি না; আমরা শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে, সত্য অনুসন্ধান করতে এবং নৈতিকতার ভিত্তিতে জীবন গঠন করতে উদ্বুদ্ধ করি। আজকের এই দিবস আমাদের নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়—শিক্ষার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য কেবল সার্টিফিকেট প্রদান নয়; বরং সৎ, যুক্তিভিত্তিক, সহনশীল ও দেশপ্রেমিক মানুষ গড়ে তোলা।
বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে আমাদের সামনে যেমন অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করেছে, তেমনি নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে। এই বাস্তবতায় শিক্ষকের ভূমিকা আরও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। আমাদের এমন এক প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে,যারা অন্ধভাবে তথ্য মুখস্থ করবে না, বরং যুক্তির কষ্টিপাথরে সত্য যাচাই করতে শিখবে। যারা গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে।আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন অনুধাবন করতে পারে—মতের ভিন্নতা বা বিতর্ক থাকবেই,কিন্তু পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা কিছুতেই ক্ষুণ্ন করা যাবে না।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সাফল্য ভালো ফলাফল বা জিপিএ-এর উপর নির্ভর করে না;বরং সেখান থেকে কেমন মানুষ সমাজ ও দেশের সেবায় যুক্ত হচ্ছে—তার ওপর নির্ভর করে।
আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন শিক্ষার্থী গড়ে তোলা,যারা একই সাথে জ্ঞানী,বিনয়ী ও মানবিক হবে। কারণ, আধুনিক যুগে একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার প্রাকৃতিক কিংবা খনিজ সম্পদ নয়,বরং বড় সম্পদ হলো সুশিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক নাগরিক এবং দক্ষ জনশক্তি।
আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আসুন আমরা অঙ্গীকার করি—আমাদের শিক্ষার্থীদের কেবল ভালো ফলাফলের জন্য নয়,বরং জীবনযুদ্ধে নীতি ও আদর্শ নিয়ে টিকে থাকার জন্য প্রস্তুত করব। এমন একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলবো, যেখানে মুক্তচিন্তা,সাংস্কৃতিক চর্চা, খেলাধুলা, বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণার বিকাশ ঘটবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যকার শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা আরও সুদৃঢ় হবে।
আমারা সবাই অবগত আছি,একটি আলোকিত সমাজ তথা দেশ গড়ার যাত্রা শুরু হয় একটি আলোকিত শ্রেণিকক্ষ থেকে; আর সেই শ্রেণিকক্ষ গড়ে তোলতে পারেন কেবল নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকগণ।
পরিশেষে, জুলাই শহীদদের স্মৃতির প্রতি আবারও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।তাঁদের আত্মত্যাগ যেন আমাদের ন্যায়নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের নীতিতে সদাসর্বদা অটল থাকতে অনুপ্রাণিত করে। আসুন, শিক্ষক হিসেবে আমরা আমাদের অর্পিত দায়িত্ব সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করে একটি সমৃদ্ধ প্রজন্ম উপহার দিই।
মহান আল্লাহ আমাদের এই শুভ প্রচেষ্টায় সহায় হোন। আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে শান্তি, উন্নয়ন ও মানবিক কল্যাণের পথে এগিয়ে নিয়ে যান। জুলাই শহীদদের স্মৃতি অমর হোক। পরিশেষে অধ্যক্ষ মহোদয় সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
প্রধান সম্পাদক: মুন্সী জামিল উদ্দিন প্রকাশক: মোসা মিতা খাতুন
সরকারি মিডিয়াভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত
২১৯/১,নূরভবন (২য় তলা), ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন নাম্বার : ০১৭১৮৭৫২৯০৯
ইমেইল: dailybanglardoot@gmail.com
সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি।
Copyright © 2026 banglar doot. All rights reserved.