মোহাম্মদ উল্লাহ ভূইয়া (সোহাগ) : কুমিল্লার দেবিদ্বারে ব্রাহ্মণখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলমকে হাত বেঁধে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। সোমবার বিকেলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে একটি মব তৈরি করে প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলমের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। তারা বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়া উচিত, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাকসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, ছেপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক, শিক্ষক নেতা মো. মফিজুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, মো. নাজমুল হাসান, মো. আশিকুর রহমান সরকার, আফরিনা সুলতানা দিনা, মাহফুজা আক্তার এবং মো. ইসমাইল হোসেন।
এদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার (২৬ জুলাই) ব্রাহ্মণখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর স্থানীয়দের একটি পক্ষ তাকে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে স্থানীয় বাজারের একটি দোকানে নিয়ে তার হাত বেঁধে মারধরের অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করে, গণিত ক্লাস চলাকালে শিক্ষক তার শরীরে একাধিকবার অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খোরশেদ আলম। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি দাবি করেন, এসএমসি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধে জড়িত একটি পক্ষ পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে বাজারে নিয়ে হাত বেঁধে মারধর করেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চাচা মো. গোলাম জিলানী জানান, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ শিশুটির বক্তব্য গ্রহণ করেছে এবং তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করছেন।
দেবিদ্বার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে শিক্ষককে মারধরের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। উভয় অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রধান সম্পাদক: মুন্সী জামিল উদ্দিন প্রকাশক: মোসা মিতা খাতুন
সরকারি মিডিয়াভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত
২১৯/১,নূরভবন (২য় তলা), ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন নাম্বার : ০১৭১৮৭৫২৯০৯
ইমেইল: dailybanglardoot@gmail.com
সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি।
Copyright © 2026 banglar doot. All rights reserved.