বিরলে এক আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে স্ত্রীর সাথে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয় নিজ বাবাকে লাঞ্ছিত করাসহ ব্যাপক পরিবর্তনে পুরো পরিবার চরম হতাশা ব্যাক্ত করেছে।
অভিযোগে জানানো হয়, মাইফুর আলম মাইম সরকারি বিধি তোয়াক্কা না করে চাকুরী হবার আগেই মোটা অংকের যৌতুক নিয়ে পাশের বালান্দোর গ্রামের হোসেন আলীর মেয়ে হুছনা বানু (১৯) কে বিয়ে করে। এরপর চাকুরী হবার পর কাউকে না জানিয়ে আরেক নারীকে ২য় বিয়ে করে সে। সম্প্রতি দিনাজপুর শহরের ওই নারী (২য় স্ত্রী)-এর সাথে বিভিন্ন ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টিকটক আকারে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয়, ঘটনা জানতে গিয়ে তার বাবাকেও লাঞ্চিত করতে ছাড়েনি মাইম। ফলে পুরো পরিবারের সাথে এখন সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন তার।
আর এসবের প্রতিকার চেয়ে বাবা জয়নুল হক ও স্ত্রী হুছনা বানু পৃথক পৃথকভাবে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক, সদরদপ্তর, খিলগাঁও, ঢাকা-১২১৯, বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
উপজেলার ৬নং ভান্ডারা ইউপি’র বৈরাগীপাড়া গ্রামের জয়নুল হক ও মর্জিনা বেগম দম্পতির ছেলে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য মাইফুর আলম মাইম। সে বর্তমানে মানিকগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৩৬বিএন)-এ কর্মরত আছে। তার ব্যাক্তিগত পরিচিতি নম্বর-১৯২৪৫৯৪।
মাইফুর আলম মাইম এর বাবা জয়নুল হক জানান, দুই পারিবারের সম্মতিতে আমার ছেলে মাইফুর আলম মাইম এর সাথে পার্শ্ববর্তী বালান্দোর গ্রামের হোসেন আলী এর মেয়ে হুছনা বানু এর সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোভাবেই চলছিল। এরপর এর সে চাকুরীর প্রশিক্ষণে যায়। প্রশিক্ষণ শেষে বাড়িতে ছুটিতে আসে এবং ছুটি শেষ করে চলে যায়। মোবাইল ফোনে টিকটিক দেখে তার কাছে জানতে চাইলে সে জানায়. সে নাকি দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। এব্যাপারে সে আমাদের কিছুই জানায়নি এবং তার বড় স্ত্রী হুছনা বানু এর কোন সম্মতি নেয়নি। মাইম আমার বৌমা হুছনা বানু এর কোন প্রকার ভোরণ পোষণ ও খোরপোষ দেয়না। অথচ মাইম এর চাকুরী হবার সময় হুছনা বানু এর বাবার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে এবং আমরাও অন্যের কাছে হাওলাদ/ঋণ নিয়ে ১০ লাখ মোট ২০ লাখ টাকা মাইম কে দিয়েছি। আমি এই বিষয় গুলো বলতে গেলে মাইম আমাকে দিনাজপুর শহরে গুন্ডা-পান্ডা দিয়ে দারুণভাবে লাঞ্চিত করেছে এবং আমি বাবা হবার পরেও সে এবং তার সঙ্গীরা আমার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ নিয়ে তারপর আমাকে ছেড়ে দিয়েছে। বিষয়টি এলাকার সবাই জানে। মাইমের কর্মকান্ডে আমি বাবা হিসাবে অতিষ্ঠ এবং লজ্জিত। আমি এ ব্যপারে ব্যবস্থা চেয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহপরিচালক, সদরদপ্তর, খিলগাঁও, ঢাকা-১২১৯, বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছি।
মাইফুর আলম মাইম এর মা মর্জিনা বেগম জানান, মাইম আমাদের ফোন ধরেনা। বাড়িতে আসেনা এবং আমাদের কারো সাথে কোন কথা বলেনা। সে এমন পরিবর্তন হবে আমি কোনদিন ভাবিনি। এই বলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
মাইফুর আলম মাইম এর স্ত্রী হুছনা বানু জানান, দুই পরিবারের সম্মতিক্রমে গত ১৫ জুলাই ২০২৫ তারিখে মাইফুর আলম মাইম এর সাথে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক আমার বিয়ে হয়। আমাদের দাম্পত্য জীবন কিছুদিন ভালোভাবেই চলছিল। এরপর সে আমাকে বিভিন্ন অত্যাচার ও নির্যাতন করতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে সে আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। সে প্রায় ৩ মাস আগে ছুটিতে এসে কৌশলে আমার ফোনে থাকা তার ও আমার যাবতীয় ডুকুমেন্ট ডিলেট করে দিয়ে চলে গেছে। সে নাকি (মাইম) আমার অনুমতি ছাড়া কোন এক টিকটকার নারীকে বিয়ে করেছে। বর্তমানে সে আমার কোন খোঁজ খবর নেয় না এবং কোন প্রকার ভোরণ পোষণ ও খোরপোষ দেয়না। এব্যাপারে আমি ব্যবস্থা চেয়ে গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহপরিচালক, সদরদপ্তর, খিলগাঁও, ঢাকা-১২১৯, বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছি। তদন্ত এসেছিল। তবে এখন পর্যন্ত কোন প্রতিকার পাইনি। আমি এই ব্যাপারে মহাপরিচালক মহোদয়ের নিকট দ্রুত বিচার চাই।
মাইমের দাদা সামশুল হক ও দাদি জরিনা বেগম জানান, মাইম এখন পরিবর্তন হয়ে গেছে। সে তার স্ত্রী হুসনা বানুকে অস্বীকার করছে। হুসনা বানু এর সাথে তার বিয়ে হয়েছে এবং হুসনা বানু এখানে ঘর সংসার করেছে। এটা এলাকার সবাই জানে। সে এখন বাড়িতে আসেনা এবং কারো কোন খোঁজ খবর নেয়না। চাচা জাহিদুল ইসলামও একই কথা জানান।
এলাকার ইমাম মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, জয়নুল হক এর ছেলে মাইফুর আলম মাইম এবং হোসেন আলী এর মেয়ে হুসনা বানু এর বিয়েটা ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক আমি পড়িয়েছি। কিন্তু সে এখন বিয়েটাকে অস্বীকার করছে।
বৈরাগীপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, মাইমের বিয়ের সময় মাইমের বাবা আমাকে আমন্ত্রণ দিয়েছিল। আমিসহ অনেকে বিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলাম। আমাদের সাক্ষাতেই মাইম ও হুসনা বানু এর আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হয়েছে। বিয়ের উপহার হিসাবে হুসনা বানু এর বাবা জামাইকে ১০ লাখ টাকাও দিয়েছে। আগে তো ছেলেটা ভালই ছিল। এখন শুনছি সে নাকি অন্য একটা মেয়েকে বিয়ে করেছে।
বিয়ের স্বাক্ষী (উকিল) একই এলাকার বেলাল হোসেন জানান, আমরা ১৫ লাখ টাকা দেন মোহরে মাইফুর আলম মাইম এর সাথে হুসনা বানু এর বিয়ে দিয়েছি।
এব্যাপারে মাইফুর আলম মাইম মুঠোফোনে জানায়, আমি হুসনা বানু (১ম স্ত্রী) এর সাথে আমার বিয়ে হয় নাই, বিয়ের চুক্তি হয়েছিল। আমার বাবাকে গুন্ডা দিয়ে মারিনি। আমার বাবা আমাকেসহ আমার স্ত্রী (২য় স্ত্রী) কে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। পরে দিনাজপুর বালুয়াডাঙ্গায় লোকজন আমার বাবাকে মারপিট করেছে। তবে এক পর্যায় সে বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলে, এখন সমস্যা হয়েছে, প্রয়োজনে দুই বউ নিয়ে থাকবো। দুই জনেই থাকবে।
প্রধান সম্পাদক: মুন্সী জামিল উদ্দিন প্রকাশক: মোসা মিতা খাতুন
সরকারি মিডিয়াভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত
২১৯/১,নূরভবন (২য় তলা), ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন নাম্বার : ০১৭১৮৭৫২৯০৯
ইমেইল: dailybanglardoot@gmail.com
সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি।
Copyright © 2026 banglar doot. All rights reserved.