হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের অন্তত চারটি গ্রাম আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গেছে এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) রাত থেকে শুরু হওয়া ঢলে ভান্ডারুয়া, জামালপুর, লৌহাদ, এক্তিয়ারপুরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ পানির নিচে চলে যায়। এতে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপে সিমনা ছড়ার একটি অংশ ভান্ডারুয়া এলাকায় ভেঙে যায়। ফলে রাতারাতি পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। গ্রামীণ সড়ক, ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ভান্ডারুয়া গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ূন কবির বলেন, রাতের মধ্যে হঠাৎ করে পানি বেড়ে যায়। অনেক পুকুর ভেসে গেছে, মাছ বের হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
কৃষক জামাল মিয়া জানান, আমার আউশ ধান, শাকসবজি ও গবাদিপশুর খাদ্য পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েক মাসের পরিশ্রম এক রাতেই শেষ হয়ে গেল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড়ি ঢলের পানিতে কয়েকশ একর আউশ ধান, মৌসুমি শাক-সবজি ও গবাদিপশুর খাদ্য নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি অনেক পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় মৎস্যচাষিরাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বেশ কয়েকটি কাঁচা ও মাটির তৈরি বসতঘর আংশিক কিংবা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. পারভেজ হোসেন চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দ্রুত ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন।
ইউপি সদস্য আব্দুল মন্নাফ বলেন, সিমনা ছড়ার অংশ ভেঙে যাওয়ায় কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বর্তমানে ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি রয়েছে এবং রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
মাধবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নূর মামুন বলেন, পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার বলেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকার আউশ ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শুরু করেছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রধান সম্পাদক: মুন্সী জামিল উদ্দিন প্রকাশক: মোসা মিতা খাতুন
সরকারি মিডিয়াভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত
২১৯/১,নূরভবন (২য় তলা), ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন নাম্বার : ০১৭১৮৭৫২৯০৯
ইমেইল: dailybanglardoot@gmail.com
সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি।
Copyright © 2026 banglar doot. All rights reserved.