ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় আজ সকালে অজ্ঞাত এক নারীর মরদহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর ইতিমধ্যে উদ্ধার হওয়া সেই অজ্ঞাত নারীর লাশের পরিচয় মিলেছে। তিনি উপজেলার হুসেইনগাঁও ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের রাউতনগর বাগানবাড়ি এলাকার আবদুল মেম্বারের দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা আক্তার (৩৬)।
আজ সোমবার ১-লা জুন সকালে উপজেলার ৬নং ভাতুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর গড় (তন্নিদিঘীর পূর্ব পাশে) নামক স্থান থেকে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে তার মরদেহ উদ্ধার করে হরিপুর থানা পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে এটিকে সাধারণ মৃত্যু মনে করা হলেও, লাশের সুরতহাল রিপোর্ট এবং পারিপার্শ্বিক আলামত এই ঘটনাকে একটি গভীর রহস্য ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত মরদেহের পেছনের অংশ মারাত্মকভাবে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অপরাধ ঢাকতে বা মৃত্যুর পূর্বে কোনো ধরনের পাশবিক নির্যাতন চালাতে এই অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নোটিজেনরা অনেকেই ধারণা করছেন ওই নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের স্বামী আবদুল মেম্বারের দাবি অনুযায়ী, গত রবিবার নাসিমা আক্তার তার দুই সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন এক কবিরাজের বাড়িতে চিকিৎসা নেওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু পথিমধ্যে তিনি তার দুই সন্তানকে পুনরায় বাড়িতে ফেরত পাঠিয়ে দিয়ে নিজে একা কবিরাজের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং এরপর আর বাড়িতে ফিরে আসেননি।
সুস্থ মস্তিষ্কে দুই সন্তানকে মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে দিয়ে নাসিমা আক্তার কেন একা কবিরাজের কাছে গেলেন, নাকি এর পেছনে অন্য কারো প্ররোচনা বা পারিবারিক কোন্দল ছিল—তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
যেহেতু নিহত নাসিমা আক্তার আবদুল মেম্বারের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন, তাই গ্রামীণ সমাজে দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে পারিবারিক দ্বন্দ্ব বা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
আজ সকালে ভবানিপুর গড় এলাকায় স্থানীয় জনতা মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে হরিপুর থানা পুলিশকে অবহিত করে। খবর পেয়ে হরিপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
হরিপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লাশের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর মূল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের দ্রুতই আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
প্রধান সম্পাদক: মুন্সী জামিল উদ্দিন প্রকাশক: মোসা মিতা খাতুন
সরকারি মিডিয়াভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত
২১৯/১,নূরভবন (২য় তলা), ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন নাম্বার : ০১৭১৮৭৫২৯০৯
ইমেইল: dailybanglardoot@gmail.com
সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি।
Copyright © 2026 banglar doot. All rights reserved.