
টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি ও থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে কিশোরগঞ্জের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির কারণে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বোরো চাষি এবং দিনমজুর শ্রেণির মানুষেরা। মাঠের পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে যেমন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, তেমনি কাজ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
মাঠের ফসল নিয়ে কৃষকের হাহাকার।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক ফসলি জমি। কৃষকরা জানিয়েছেন, ধান কাটার এই ভরা মৌসুমে বৃষ্টির কারণে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। কৃষক আজিজুল হক আক্ষেপ করে বলেন,"ধান পানিতে ডুবে গেছে। অনেক কষ্টে যা একটু কাটতে পেরেছি, রোদের অভাবে তাও শুকাতে পারছি না। তার ওপর ধান কাটার জন্য কামলা (শ্রমিক) পাওয়া যাচ্ছে না।
আরেক কৃষক নুরু মিয়া বলেন আজ সকাল থেকে দিন ভালো ছিল, কিন্তু দুপুরের পর থেকেই দিন অন্ধকার ও প্রচুর বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
কর্মহীন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ
বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে স্থানীয় শ্রমবাজারেও। যারা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন, তাদের ঘরে এখন চুলো জ্বলাই দায় হয়ে পড়েছে।
শ্রমিক শামীম জানান, বৃষ্টির কারণে বাইরে কোনো কাজ নেই, ফলে পরিবার নিয়ে অতি কষ্টে দিন কাটছে।
রিকশাচালক মজলু মিয়া বলেন, "রাস্তায় মানুষ নেই, বৃষ্টিতে গাড়ি চালানোও যাচ্ছে না। ইনকাম একদম বন্ধ, কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।"
ইটভাটা শ্রমিক আজিজ জানান, বৃষ্টির কারণে ইটকলায় নিয়মিত কাজ করতে পারি না, কাঁচা ইটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে শহরের নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। হাট- বাজারগুলোতে লোকসমাগম কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। একদিকে ধান নষ্ট হওয়ার ভয়, অন্যদিকে কর্মহীনতা—সব মিলিয়ে কিশোরগঞ্জের সাধারণ মানুষের জনজীবন এখন বিপর্যস্ত।
স্থানীয়রা দ্রুত আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতির প্রার্থনা করছেন, যাতে অন্তত কষ্টার্জিত ফসলটুকু তারা নিরাপদে ঘরে তুলতে পারেন।
প্রধান সম্পাদক: মুন্সী জামিল উদ্দিন প্রকাশক: মোসা মিতা খাতুন
সরকারি মিডিয়াভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত
২১৯/১,নূরভবন (২য় তলা), ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন নাম্বার : ০১৭১৮৭৫২৯০৯
ইমেইল: dailybanglardoot@gmail.com
সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি।
Copyright © 2026 banglar doot. All rights reserved.