আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে সেমাই কারখানাগুলোতে ব্যস্ততা তুঙ্গে। তবে এই সুযোগে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই উৎপাদন করছে। সম্প্রতি সদর উপজেলার একটি বড় কারখানাকে লাখ টাকা জরিমানা করা হলেও বদলায়নি সেখানকার চিত্র। ফলে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে জেলা সদরের রহিমানপুর ইউনিয়নের আদুরী গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ নামক কারখানায় গিয়ে দেখা যায় বীভৎস দৃশ্য। একদিকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে লাচ্ছা সেমাই তৈরি করে দ্রুত প্যাকেটজাত করা হচ্ছে, অন্যদিকে সাদা সেমাই শুকানোর জন্য ফেলে রাখা হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। সেখানে ধুলোবালির সাথে সাথে সেমাইয়ের ওপর অবাধে বিচরণ করছে পোকা-মাকড়। কারিগরদের হাতে বা শরীরে নেই কোনো ন্যূনতম স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী।
জানা গেছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জেলা নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ডালডা ব্যবহারের সত্যতা পায়। সে সময় প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
কিন্তু স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানিয়েছেন, জরিমানার পর উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও উন্নত করার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। বরং প্রশাসনের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মুনাফার লোভে একই কায়দায় উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে।
কারখানার ম্যানেজার ওসমান আলী পলাশ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করে বলেন, "সামান্য ত্রুটি থাকতে পারে, তবে আমরা ভালো পরিবেশে উৎপাদনের চেষ্টা করছি।"
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই এসব অসাধু মালিকেরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এসব কারখানা সিলগালা করার দাবি তুলেছেন তারা। মানুষের জীবন নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছে, তাদের শুধু জরিমানা করে লাভ নেই। এদের কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া উচিত এমনটাই দাবি করেছেন একজন স্থানীয় বাসিন্দা
।
জেলা নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মাহমুদুল কবির জানান, আদুরী ফুডকে ইতিমধ্যে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে এবং বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি তাদের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। অবস্থার উন্নতি না হলে কারখানাটি সিলগালা করার জন্য সুপারিশ করা হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম বলেন, "উৎসবের আগে কেউ যেন ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য বাজারে ছাড়তে না পারে, সেজন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।"
প্রধান সম্পাদক: মুন্সী জামিল উদ্দিন প্রকাশক: মোসা মিতা খাতুন
সরকারি মিডিয়াভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত
২১৯/১,নূরভবন (২য় তলা), ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন নাম্বার : ০১৭১৮৭৫২৯০৯
ইমেইল: dailybanglardoot@gmail.com
সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি।
Copyright © 2026 banglar doot. All rights reserved.