মো. শামীম হোসাইন: পিরোজপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতায় মরতে বসেছে বলেশ্বর নদ। নদীর মাঝে ব্লক ফেলে তৈরি করা হয়েছে শহর রক্ষা বাঁধ। ফলে নদীর মাঝে চর জাগায় বন্ধ হয়ে পড়েছে নৌ চলাচল। পানির সংকটে বন্ধের উপক্রম পিরোজপুর পৌরসভার একমাত্র ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। তাছাড়া নদীর পানি কমে যাওয়ায় এলাকার কৃষিকাজে পড়েছে বিরুপ প্রভাব।
এক সময়কার প্রমত্তা বলেশ্বর নদের মাঝে প্রতিনিয়ত চোখে পড়বে যাত্রী ও মালবাহী নৌকা আটকে থাকার দৃশ্য । চরে আটকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয় যাত্রীদের । অনেকে হেঁটে পারাপার হয় বলে জানান খেয়াঘাটের মাঝিরা। ট্রলার ও নৌকায় যাত্রী এবং মালামাল নিয়ে নাব্যতার কারনে নদীতে আটকে জোয়ারের অপেক্ষায় থাকতে হয় প্রতিনিয়ত।
দখল ও অপরিকল্পিত কার্যক্রম এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারনে নাব্যতা হারিয়ে মরতে বসেছে এ নদটি। যার ফলে বিকল্প পথে মালামাল পরিবহনে খরচ গেছে বেড়ে। পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় পিরোজপুর পৌর এলাকার একমাত্র ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টটি ভুগছে চরম পানি সংকটে। ফলে পৌরবাসীর সুপেয় পানির সংকট প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে। এদিকে নাব্যতা কমে যাওয়ায় এলাকার কৃষিকাজে পড়েছে বিরুপ প্রভাব।
স্থানীয় খেয়া মাঝি মো: জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘৩০ বছরের অধিক সময় ধরে আমি বলেশ্বর নদীতে নৌকা চালিয়ে সংসার চালাই। এক সময় এই নদীতে প্রচুর পানি ছিল, গভীরতা ছিল অনেক। নদীতে অনেক জাহাজ মালামাল নিয়ে আসতো। জেলেরা মাছ ধরত। কিন্তু সাত থেকে আট বছর আগে শহর রক্ষার নামে বাঁধ তৈরি করতে গিয়ে নদীর মাঝে ব্লক ফেলে নদী হত্যা করা হয়েছে। যার ফলে এখন নদীর মাঝে চর লেগে মালবাহি নৌ চলাচল বন্ধ হয়েছে। সাধারণত যাত্রী নিয়ে এপার-ওপার যাওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। নদীর মাঝ থেকে এখন ছোট ছোট ছেলেরা হেঁটে এপার ওপার আসা যাওয়া করে। পানি সংকটে বিভিন্ন এলাকায় কৃষিকাজ বন্ধ প্রায়। পৌরসভার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টটিও বন্ধের উপক্রম হয়েছে।’
পিরোজপুর পৌরসভার পানি ও পয় নিষ্কাশন বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, বছরের এ সময়ে নদীর শুকিয়ে যাওয়ায় পৌরসভার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে পানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে। কারণ নদীতে পানি না থাকায় ঠিকমতো পানি পাওয়া যায় না । এ সমস্যা সমাধানের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ বিকল্প চিন্তা-ভাবনা করছে।
নদীর তীর সংরক্ষণে কয়েক বছর পূর্বে পানি উন্নয়ন বোর্ড অপরিকল্পিতভাবে ব্লক ফেলায় নদীর পানি প্রবাহ বাঁধাগ্রস্থ হয়েছে। ফলে চর পড়ে ভরাট হয়ে গেছে এক তৃতীয়াংশ নদী। তবে পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুসাইর হোসেন এ প্রসঙ্গ এড়িয়ে বলেন, বরাদ্দ পেলে নদীটি খনন করে চর অপসারণের মাধ্যমে এ এলাকার মানুষের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন তারা।
বলেশ্বর নদের মাধ্যমে পৌরসভার পানি সরবরাহের প্লান্টের উপর লক্ষাধিক মানুষ নির্ভরশীল। আর এ নদের পানির উপর নির্ভর করে কমপক্ষে ১৫ হাজার হেক্টর জমির চাষাবাদ হয়।
প্রধান সম্পাদক: মুন্সী জামিল উদ্দিন প্রকাশক: মোসা মিতা খাতুন
সরকারি মিডিয়াভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত
২১৯/১,নূরভবন (২য় তলা), ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন নাম্বার : ০১৭১৮৭৫২৯০৯
ইমেইল: dailybanglardoot@gmail.com
সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি।
Copyright © 2026 banglar doot. All rights reserved.