
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ জেলার চারটি সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছরন। এ নিয়ে জেলায় রাজনৈতিক তৎপরতা যেমন বেড়েছে, তেমনি দলীয় অঙ্গনেও মনোনয়নকে ঘিরে আলোচনা ও বিশ্লেষণ চলছে।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ঝিনাইদহ জেলার চারটি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা নিজ নিজ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এদিন ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা), ঝিনাইদহ-২ (ঝিনাইদহ সদর–হরিণাকুণ্ডু), ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর–মহেশপুর) ও ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ–সদর আংশিক) আসনের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসউদের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
একই দিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঝিনাইদহ-২ (ঝিনাইদহ সদর–হরিণাকুণ্ডু) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে বিকাল ৪টার দিকে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোঃ আসাদুজ্জামান তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এ সময় জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর–মহেশপুর) আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী মেহেদী হাসান রনি রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকাল চারটার দিকে নিজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তার মনোনয়নপত্র জমা দেন। এছাড়া ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ–সদর আংশিক) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খান সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
মনোনয়ন ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা
এদিকে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসনে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হেভিওয়েট নেতা জয়ন্ত কুমার কুন্ডু ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে তিনি একাধিক মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তার সমর্থকরা। পাশাপাশি তিনি খুলনা বিভাগীয় বিএনপিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তবে শেষ পর্যন্ত সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোঃ আসাদুজ্জামানকে মনোনয়ন দেওয়ায় দলটির স্থানীয় পর্যায়ে ভিন্নমতের সৃষ্টি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বিএনপির একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হলেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মেনে দলীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অপরদিকে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ–সদর আংশিক) আসনেও মনোনয়নকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এই আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এবং জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য, সাবেক এমপি পত্নী মুর্শিদাজ্জামান পপি ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে শেষ পর্যন্ত গণ-অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানকে বিএনপির পক্ষ থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়ায় এলাকায় আলোচনা ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত। তাদের মতে, ভিন্ন রাজনৈতিক পটভূমি থেকে আসা প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং ভোটের মাঠে জনগণের সমর্থন আদায়ই এখন প্রধান লক্ষ্য।
প্রধান সম্পাদক: মুন্সী জামিল উদ্দিন প্রকাশক: মোসা মিতা খাতুন
সরকারি মিডিয়াভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত
২১৯/১,নূরভবন (২য় তলা), ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন নাম্বার : ০১৭১৮৭৫২৯০৯
ইমেইল: dailybanglardoot@gmail.com
সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি।
Copyright © 2026 banglar doot. All rights reserved.