পিরোজপুরের অষ্টম বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সেতুতে (স্থানীয়ভাবে বেকুটিয়া সেতু) এক বছর ধরে অন্ধকার বিরাজ করছে। সেতুর কাউখালী প্রান্তের প্রায় ৭৫০ মিটার বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যার পর থেকেই সেতুর বড় একটি অংশ অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে। এতে প্রতিদিনই ঝুঁকিতে পড়ছেন যানবাহনের চালক ও সাধারণ পথচারীরা।
খুলনা–বরিশাল মহাসড়কের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি বেনাপোল–খুলনা–বরিশাল–কুয়াকাটা রুটের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর চীন সরকারের সহায়তায় নির্মিত সেতুটির উদ্বোধন হয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুতে আলো না থাকায় বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা, তৈরি হচ্ছে ছিনতাই ও চুরির আতঙ্ক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর কাউখালী অংশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা সম্পূর্ণ অন্ধকারে ডুবে যায়। ফলে গাড়ি চলাচলে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। একই সঙ্গে রাত গভীর হলে সেখানে মাদক বেচাকেনা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও উঠেছে।
পিরোজপুর জেলা শহরে বিনোদনের উল্লেখযোগ্য স্থান না থাকায় সদর উপজেলা ও আশপাশের এলাকার মানুষ সন্ধ্যার পর বেকুটিয়া সেতু এলাকায় ঘুরতে যান। কিন্তু আলোর ব্যবস্থা না থাকায় নারী ও শিশুদের নিয়ে সেখানে যাতায়াতে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এতে দর্শনার্থীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।
বেকুটিয়া সেতুতে ঘুরতে আসা বেল্লাল হোসেন বলেন, “আগে ব্রিজে লাইট ছিল, নামা-ওঠা সহজ ছিল। এখন চারপাশ অন্ধকার, ছিনতাইয়ের ভয় থাকে। নারী ও বাচ্চা নিয়ে আসলে বেশি চিন্তা হয়। দ্রুত সমস্যার সমাধান দরকার।”
কাউখালী এলাকার বাসিন্দা আল মামুন বলেন, “লাইট না থাকায় চলাফেরা করা খুব কষ্টকর। বাচ্চাদের নিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তাই সবচেয়ে বড় সমস্যা।”
অটোরিকশা চালক মো. রুবেল জানান, “আগে কোনো সমস্যা ছিল না। এখন অর্ধেক সেতু অন্ধকার, আতঙ্ক নিয়ে পার হতে হয়। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা বা ছিনতাই হতে পারে।”
এ বিষয়ে পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, “বেকুটিয়া সেতুর কাউখালী প্রান্তের ৭৫০ মিটার বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব সেতুর আলোর ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করে সেতুতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সেতু ব্যবহারকারীরা।
প্রধান সম্পাদক: মুন্সী জামিল উদ্দিন প্রকাশক: মোসা মিতা খাতুন
সরকারি মিডিয়াভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত
২১৯/১,নূরভবন (২য় তলা), ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন নাম্বার : ০১৭১৮৭৫২৯০৯
ইমেইল: dailybanglardoot@gmail.com
সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি।
Copyright © 2026 banglar doot. All rights reserved.