পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা থেকে চার বোনকে বঞ্চিত করে বাবার রেখে যাওয়া সমস্ত জমি একাই বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভাই শহিদুলের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা সুবিচারে আশায় সংবাদ সম্মেলন করেন। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) ঝিনাইদহ প্রেস ইউনিটির কার্যালয়ে উক্ত সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে জানানো হয়, দীর্ঘ্য আইনি লড়াইয়ের পর আদালত থেকে নিজেদের পক্ষে প্রাথমিক রায় (ডিক্রি) পেলেও এখনো জমির দখল ও হিস্যা বুঝে পাননি ভুক্তভোগী চার বোন। ঘটনাটি ঘটেছে যশোর সদর থানার ২ নং ইসাতমৌলি ইউনিয়নের পাঁচ বাড়িয়া গ্রামে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সামসুর রহমান মন্ডল এর মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন তাঁর এক ছেলে শহিদুল ইসলাম এবং চার মেয়ে,১.মনোয়ারা খাতুন, ২.রওশনারা বেগম, ৩.জেবুন নাহার বেগম এবং ৪. আমেনা বেগম । মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী বাবার সম্পত্তিতে ভাই ও বোন উভয়েরই হক রয়েছে। কিন্তু অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম বোনদের প্রাপ্য অংশ না দিয়ে এবং তাদের অগোচরে বাবার সমস্ত জমি নিজের নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে অন্যদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী বোনদের মধ্যে মামলা চলমান থাকাকালীন ৩ বোন মৃত্যু বরণ করেন।৩ বোনের ওয়ারেশ গন সহ একজন বোন জেবুন্নাহার জানান, "বাবা মারা যাওয়ার পর ভাই আমাদের কোনো জমি বুঝিয়ে দেননি। আমরা চাইতাম ভাই-বোনের সম্পর্ক ঠিক থাকুক, তাই প্রথমে সামাজিকভাবে মিমাংসার চেষ্টা করি। কিন্তু ভাই শহিদুল আমাদের কোনো কথাই শোনেননি, উল্টো আমাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে জমি বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন।"
কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী বোনেরা আদালতের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ শুনানির পর বিজ্ঞ আদালত চার বোনের পক্ষে রায় প্রদান করেন এবং তাদের প্রাপ্য জমি বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের এই রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শহিদুল এখনো জমি বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। উল্টো তিনি পেশিশক্তি ও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে বোনদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, শহিদুল কৌশলে জমিগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন, ফলে ক্রেতারাও এখন জমির মালিকানা দাবি করছেন। এমতাবস্থায় আদালতের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতের রায় থাকলে জমি বিক্রি অবৈধ বলে গণ্য হতে পারে এবং বোনেরা তাদের হিস্যা ফিরে পেতে প্রশাসনের সহায়তা নিতে পারেন।
বর্তমানে ভুক্তভোগী চার বোন চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তারা আদালতের রায় কার্যকর করতে এবং পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পেতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রধান সম্পাদক: মুন্সী জামিল উদ্দিন প্রকাশক: মোসা মিতা খাতুন
সরকারি মিডিয়াভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত
২১৯/১,নূরভবন (২য় তলা), ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন নাম্বার : ০১৭১৮৭৫২৯০৯
ইমেইল: dailybanglardoot@gmail.com
সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি।
Copyright © 2026 banglar doot. All rights reserved.