
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে প্রথম সন্তান জন্মের ১০ ঘণ্টা পরে বিশ বছর বয়েসের কৃষ্ণা রানী নামে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে,,
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের গাফিলতি, ডাক্তার না থাকা ও জরুরি অবস্থায় পর্যাপ্ত সেবা প্রদানে সক্ষমতা না থাকায় প্রসূতি নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে,,
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাত তিনটার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পথে ডোমার উপজেলা পার হয়ে মৃত্যু হয় গৃহবধূ কৃষ্ণা রানীর।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪.০০ টায় দেবীগঞ্জ পৌর শহরের করতোয়া সেতু টোল পয়েন্ট সংলগ্ন দেবীগঞ্জ স্কয়ার ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কৃষ্ণা রানীর সিজারিয়ান অপারেশন হয়। অপারেশনের পর রাত ৩.০০ পর্যন্ত তিনি সেখানেই ভর্তি ছিলেন।
কৃষ্ণা রানী গ্রামের বাড়ি উপজেলার ৯ নং দেবীডুবা ইউনিয়নের তেলীপাড়া প্রেমবাজার এলাকার ধর্ম নারায়ণের স্ত্রী,,
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কৃষ্ণা রানীর আগে থেকে শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। গর্ভবতী থাকাকালীন তেমন কোন জটিলতা ছিল না। নরমাল ডেলিভারির সময় ছিল আজ (শুক্রবার)। তবে গতকালই (বৃহস্পতিবার) সিজারের জন্য তাকে দেবীগঞ্জে স্কয়ার ক্লিনিকে নিয়ে যায় তার স্বামী। সাথে ছিলেন তার শাশুড়ি।
সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিকাল ৩.৩০ মিনিটের দিকে অপারেশন ওটি তে নিয়ে যাওয়া হয় কৃষ্ণা রানী কে ,, সিজারিয়ান অপারেশনটি সম্পন্ন করেন ডা. শিখা মনি। কৃষ্ণা রানী সেখানে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। অপারেশন শেষে বেডে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই শারীরিক জটিলতা শুরু হয় কৃষ্ণা রানীর। ওভাবেই রাত ২টা পর্যন্ত ক্লিনিকে রাখা হয়। এরপর রংপুরে নিয়ে যেতে বলা হয়। রংপুরে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়,,
কৃষ্ণা রানীর শাশুড়ী কনিকা রায় বলেন, বউমাকে বেডে দেওয়ার পর থেকে বুক ছটফট করছে এবং পায়ে ব্যাথার কথা বলতে থাকে। আমি বারবার ক্লিনিকে জানানোর পরও ডাক্তার আসেননি। শুধু নার্স এসে দেখে যাচ্ছিলেন। আর স্যালাইন ইঞ্জেকশন চলছিল।
কনিকা রায় আরও বলেন, বউমার সন্তান হচ্ছে না দেখে গত তিন বছর কত জায়গায় যে চিকিৎসা করিয়েছি। আমার বউমার মতো মেয়ে হয়না। এখন নাতনি আছে কিন্তু আমার বউমা নেই। সার্জারির পরে অস্বাভাবিক ভাবে পেট ফুলে উঠেছিল বলেও জানান তিনি।
কৃষ্ণা রানীর স্বামী ধর্ম নারায়ণ বলেন, আমার স্ত্রীর বিয়ের আগে থেকে শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। তবে গুরুতর কোন শারীরিক জটিলতা ছিল না। কাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তার বলল রক্ত স্বল্পতা আছে। পরে রক্ত জোগাড় করি। সিজারের পর থেকে আমার স্ত্রী সমস্যার কথা বলছিল। রাতে অবস্থা বেশি অবনতি হওয়ায় রংপুরে নেওয়ার পথে ডোমার উপজেলা পার হলে আমার স্ত্রী মারা যায়।
এই বিষয়ে দেবীগঞ্জ স্কয়ার ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক শহিদুল ইসলাম বাবুল মুঠোফোনে বলেন, বিকেলে ক্লিনিকে আসেন। সাক্ষাতে সব বলব।
এই বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন ধর বলেন, আমি নিজেই ওই ক্লিনিকে গিয়ে বিষয়টি দেখব।
পঞ্চগড় জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি শুনিনি। আমি ওখানকার লোকাল অথোরিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলব।
উল্লেখ্য, এর আগেও দেবীগঞ্জ স্কায়ার ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেয়া অন্তত তিনটি নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। প্রতিটি শিশুর শারীরিক জটিলতা শুরু হওয়ার পর রংপুর কিংবা ঠাকুরগাঁওয়ে রেফার্ড করা হয়েছিল।
প্রধান সম্পাদক: মুন্সী জামিল উদ্দিন প্রকাশক: মোসা মিতা খাতুন
সরকারি মিডিয়াভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত
২১৯/১,নূরভবন (২য় তলা), ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন নাম্বার : ০১৭১৮৭৫২৯০৯
ইমেইল: dailybanglardoot@gmail.com
সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি।
Copyright © 2026 banglar doot. All rights reserved.