
লক্ষ্মীপুর শহরের ঝুমুর সংলগ্ন নছির আহম্মেদ ভূঁইয়া মিলনায়তনের সামনে আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন ৮০ বছরের কিরণীবালা।নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই,নেই পরিবারের সঙ্গ,এমনকি নেই একবেলা খাবারের নিশ্চয়তাও। দিন রাত এক করে একই স্থানে শুয়ে বসে দিনাতিপাত করছেন তিনি।
পথচারীদের দেওয়া সামান্য সাহায্যেই কোনো রকমে বেঁচে আছেন।
কিরণীবালা জানান, প্রায় এক বছর ধরে তিনি এই স্থানে বসবাস করছেন। এর আগে নোয়াখালীর মাইজদিতে থাকতেন। শেষ বয়সে আশ্রয় হারিয়ে এখন ঠাঁই হয়েছে খোলা আকাশের নিচে।
তিনি আরো জানান, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ থেকে এমএ পাস করেছিলেন। রামগঞ্জ উপজেলার করপাড়া ইউনিয়নের উপন্ড ও সুসান্ত দম্পতির একমাত্র কন্যা কিরণীবালা বিয়ে করেছিলেন নোয়াখালীর সুধারাম থানার মাইজদি ওহিদপুর গ্রামের গ্রাম্য ডাক্তার হরলালের সঙ্গে। সংসারে ছিল নারায়ণ, বাবুল, দুলাল, রাখালসহ পাঁচ সন্তান।
১৯৭০ সালের শুরুর দিকে স্বামী হরলাল প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর একে একে মৃত্যুবরণ করেন কিরণীবালার পাঁচ সন্তানও। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এখন তিনি সম্পূর্ণ একা, নিঃস্ব ও অসহায়।
তবে স্থানীয়রা জানান, কিরণীবালা মাঝে মাঝে অসংলগ্নভাবে কথা বলেন। ফলে তার সব বক্তব্যের পূর্ণ সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু তিনি যে দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয়হীন ও মানবেতর জীবন যাপন করছেন তা স্পষ্ট এবং সত্য।
এখন তার জীবনের একমাত্র সঙ্গী খোলা আকাশ, ছেঁড়া কাপড় আর ক্ষুধা। পথচারীদের দেওয়া সামান্য দানেই কোনো রকমে কাটে তার দিন। কিরণীবালা বলেন, “মানুষ শেষে আমারে মারে, আশ্রয় পাইলাম না কোথাও।”
এদিকে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আনন্দ-উৎসবের এই সময়ে কিরণীবালার ভাগ্যে জোটেনি একটি নতুন কাপড়ও।
স্থানীয়দের মতে, কিরণীবালার জন্য আশ্রয়, চিকিৎসা ও খাবারের নিশ্চয়তা দিতে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগ এখন অত্যন্ত জরুরি। জীবনের শেষ বয়সে অন্তত নিরাপদ আশ্রয় ও কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন অসহায় নারী।
প্রধান সম্পাদক: মুন্সী জামিল উদ্দিন প্রকাশক: মোসা মিতা খাতুন
সরকারি মিডিয়াভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত
২১৯/১,নূরভবন (২য় তলা), ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন নাম্বার : ০১৭১৮৭৫২৯০৯
ইমেইল: dailybanglardoot@gmail.com
সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি।
Copyright © 2026 banglar doot. All rights reserved.