
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের ধলডোব মাদরাসায় একের পর এক দুর্নীতি করেছেন। অথচ বার বার উপর মহলে অভিযোগ করার পরও প্রশাসন নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছে। জোর যার মুল্লুক তার এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখেই চলছে মাদরাসা সুপার আশরাফ এর দুর্নীতির নৈরাজ্য। নিয়োগ বানিজ্য থেকে শুরু করে অবৈধ ভাবে সরকারী বই বিক্রি,গাছ কর্তন,গায়েবী ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি,শিক্ষকের পরিবর্তে বাইরে থেকে শিক্ষক এনে ক্লাস করানো,জাল সনদে চাকুরী দেওয়াসহ অসংখ্য অভিযোগ উঠে এসেছে তার বিরুদ্ধে। সিরাজগঞ্জ অনুসন্ধানী সাংবাদিক টিমের অনুসন্ধানে উঠে আসে এসব ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র। ২০০৩ সালে ধলডোব দাখিল মাদরাসার পদযাত্রা শুরু হলেও দুর্নীতির কারনে এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভুক্তর আওয়াতায় আসতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই দুর্নীতির আখড়া বানিয়ে রেখেছে ভারপ্রাপ্ত মাদরাসা সুপার আশরাফ। গ্রামবাসীর তথ্যমতে,
প্রতিষ্ঠান শুরু থেকে যেসকল শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী ছিল তাদের বিনা নোটিশে চাকরি থেকে বাদ দিয়ে নতুন করে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে নিয়োগ নিয়েছে। তারা আরও বলেন, সুপার আশরাফ আলী স্থানীয় এমপি তানভীর শাকিল জয়ের আস্থাভাজন ছিলেন। তারই ক্ষমতা খাটিয়ে পূর্বের সকল ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দিয়ে নতুন করে লোক নিয়েছে। এছাড়া দিনের পর দিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে যার যার নিজস্ব কর্মস্থলে ঘরবাড়িতে থেকে কাজ চালাচ্ছে এতে ক্ষতি হচ্ছে মাদ্রাসার ছাত্র- ছাত্রীর,উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ভাবে তিনি একক নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠান চালান। এছাড়া এই প্রতিষ্ঠানে দুইজন শিক্ষক, দুইজন শিক্ষাকা রয়েছে। সম্প্রতি টাকার বিনিময়ে নতুন একজন দপ্তরীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে সুপারসহ মোট ৮ জনের এই প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বছরের শুরুতে ভর্তি করিয়ে মাসের মধ্যে নামে শুধু প্রতিষ্ঠান খুলে থাকে। এদিকে চাকরি দেবার নাম করে দাতা সদস্য আশরাফুলের কাছ থেকে সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা নেন, অথচ আশরাফুল কে চাকুরী না দিয়ে পরে ঐ একই পদের জন্য লুৎফর রহমানের কাছ থেকে ৭ লক্ষ টাকা নিয়ে নিয়ম বহির্ভুত তাকে নিয়োগ দেন। আবার
দপ্তরী পদে মাহবুবুর রহমানের পরিবর্তে ফজলুল হক করিমকে এবং নৈশ প্রহরী শাহ আলমের পরিবর্তে রাশিদুল ইসলাম হককে অর্থের বিনিময়ে চাকুরি দেয়া হয়েছে।
বিনা নোটিশে চাকরীচ্যুত ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী জানা যায়,রাজনৈতিক প্রভাব ও সুপারের স্বেচ্ছাচারিতার নিয়োগ বাণিজ্য বিদ্যালয়ের অনুপস্থিতি, জায়গা দখল, বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করাসহ নানা বিস্তর অভিযোগ রয়েছে সুপারের বিরুদ্ধে। এনিয়ে এলাকাবাসী দফায় দফায় প্রতিবাদ করলেও আওয়ামী রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ক্ষমতা খাটিয়ে নিয়ম বহির্ভূত বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তার এ অনিয়ম দুর্নীতি এলাকাবাসীর মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করেও কোন সুফল বা রেহায় পাচ্ছে না ভূক্তভোগী ও অভিভাবকবৃন্দ। বিগত মাদ্রাসা
সদস্যরা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের নামে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। এমনকি বিগত সভায় প্রতিষ্ঠানের আয়- ব্যয়ের হিসাব সুপারের কাছে চেয়েও পাননি। প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের টাকাও মাদ্রাসা সুপার আত্মসাৎ করেছেন।
ভারপ্রাপ্ত সুপার আশরাফ আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ স্বীকার করে বলেন,বন অধিদপ্তর,মৎস্য অধিদপ্তর,শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের কাছে আমার বিরুদ্ধে যে লিখিত অভিযোগ দেওয়া আছে- সেখান থেকে যে ব্যবস্থা নেবে আমি তা মেনে নেব।এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ,
জনাবা,এলিজা সুলতানা বলেন,বিষয়টি আমি দেখব।
০৫/০৭/২০২৫
প্রধান সম্পাদক: মুন্সী জামিল উদ্দিন প্রকাশক: মোসা মিতা খাতুন
সরকারি মিডিয়াভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত
২১৯/১,নূরভবন (২য় তলা), ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন নাম্বার : ০১৭১৮৭৫২৯০৯
ইমেইল: dailybanglardoot@gmail.com
সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি।
Copyright © 2026 banglar doot. All rights reserved.