
খুলনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে এলাকাবাসী ও ভূক্তভূগী পরিবার ,
খানজাহান আলী থানার শ্যামগঞ্জ মৌজার কেস নং এল, এ কে ডি এ ১১সি/৬২-৬৩ শিল্প এর নামে হুকুম দখলকৃত 135 পয়েন্ট চোদ্দ একর জমির ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা না করে এবং শিল্প করতে ব্যর্থ হয়ে আবাসিক করা সহ খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বেআইনি কার্যকলাপ বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন কেডিএ এর বে-আইনি ও অবৈধ হুকুম দখলকৃত জমি পুনরুদ্ধার কমিটি।
গতকাল ১৪ জুন সকালে খুলনা প্রেসক্লাবের এক সাংবাদিক সম্মেলনে কমিটির নেতৃবৃন্দ আরও দাবি করেন আবাসিকের ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ ৫৬ বছরেও পরিশোধ করা হয়নি চূড়ান্ত করা হয় নাই প্রাক্কলন তৈরির কাজ।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ গফফার বলেন, আজ থেকে ৫৬ বছর পূর্বে সাবেল ফুলতলা বর্তমান খানজাহান আলী থানার শামগঞ্জ মৌজার ১৩৫.১৪ একর জমি খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আবেদনে জেলা প্রশাসক, খুলনা মহোদয় ১৯৬৮ সালে এল, এ কেস নং- ১১সি/৬২-৬৩ (শিল্প) এর মাধ্যমে হুকুম দখল করেন কিন্তু চূড়ান্ত প্রাক্কলন না করে প্রাথমিকভাবে নাম মাত্র খসড়া প্রাক্কলন করে ৭৫% (কম/বেশি) টাকা ভুক্তভোগীদের দিয়ে জমি হইতে উচ্ছেদ করেন। দীর্ঘ ৫৬ বছরেও চূড়ান্ত প্রাক্কলন তৈরি করে আমাদের ক্ষতিগ্রস্থদের বাকী পাওনা পরিশোধ করেন নাই। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন-নিবেদন করিয়া ক্ষতিপূরণ আদায়সহ আমাদের দাবীসমূহ বাস্তবায়ন করাতে পারি নাই।
অধ্যক্ষ শেখ আবদুল গফফার আরো বলেন, যে হুকুম দখলকৃত ১৩৫.১৪ একর জমির মধ্যে কেডিএ কর্তৃপক্ষ মাত্র কয়েক একের জমিতে শিল্প স্থাপন ও শিল্পে চলাচলের জন্য ২২ একর জমি রাস্তা হিসাবে মোট ২৫ একর জমিতে শিল্প স্থাপতি হয়েছে যার অধিকাংশ অচল ও রুগ্ন শিল্প। বাকী ১১০.১৪ একরজমি দীর্ঘদিন যাবৎ চাষাবাদের জন্য বাৎসরিক ইজারা প্রদানের মাধ্যমে ব্যক্তিবিশেষ লাভবান হতে থাকলে ইজারা প্রদানের বিরুদ্ধে মামলা করলে উক্ত মামলার রায়ের প্রেক্ষিতে ১৯৮০ সালে ইজারা বন্ধ হয়ে যায়। তারপর জমিতে শিল্প করতে ব্যর্থ হয়ে পরবর্তীতে কেডিএ কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সুকৌশলে শ্যামগঞ্জ মৌজার জমি মিরেরডাঙ্গা আবাসিক প্রকল্প নাম দিয়ে আবাসিক প্লট হিসাবে বরাদ্দ দিতেছে অথচ ঐ জমির মালিকগণ চূড়ান্ত প্রাক্কলন হিসাবে ক্ষতিপূরণ না পেয়ে নিররাশ্রয়ে (ভাড়া বাড়িতে) বসবাস করছে। যা অত্যন্ত অমানবিক। কেডিএর এ সকল বে-আইনীও অবৈধ কার্য কলাপ সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণে জোর দাবি জানাচ্ছি।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত কমিটির বিন্দু বলেন, আমরা বসত ভিটা হারিয়ে এবং সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ না পেয়ে অতিকষ্টে জীবন যাপন করছি। কেহ বস্তিতে, কেহ ভাড়া বাড়িতে, আবার কেহ যাযাবরের মতো দিন যাপন করছে। বর্তমান বি আর এস জরিপে উক্ত ভূমি জেলা প্রশাসক, খুলনা মহোদয়ের নামে রেকর্ড হয়েছে। কেননা আমাদের হুকুম দখলকৃত ভূমির চূড়ান্ত প্রাক্কলন করে ক্ষতিপূরণ ও গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে Deed of Transfer সম্পন্ন হয় নাই। ইতোমধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) বর্ণিত স্মারক নং-পৃঃগঃম/খুঃউঃকঃ/০১/২০০৯/৭১ তাং-১৭/০৫/২০০৯ এবং জেঃ প্রঃ খুঃ/ এলএ/কেডিএ/১১/সি/৬২-৬৩ (শিল্প)/৫৪. তাং-২০/০৭/২০০৯ মোতাবেক দখলকৃত অব্যবহৃত প্রায় ৬০.১৪ একর ভূমি মিরেরডাঙ্গা আবাসিক এলাকা উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পভূক্ত করে আবাসিক হিসেবে ব্যভহারের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করে। কিন্তু উল্লেখিত কেসটি ১৯৪৮ সনের জরুরী সম্পত্তি হুকুম দখল আইনের ৫(৭) ধারা মোতাবেক গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে চূড়ান্ত অধিগ্রহণ এবং Deed of Transfer সম্পন্ন না হওয়ায় ভূমি মন্ত্রণালয় বর্ণিত স্মারক নং-ভূঃমঃ/শা-৫/অনুঃ/খুলনা- ০১/২০০৯/১১৮, তাং-১৩/১০/২০০৯ অনুযায়ী নাকচ করে দেয়। পরবর্তী সময়ে আমরা জানতে পেরেছি যে, কেডিএ কর্তৃপক্ষ ভুল তথ্য প্রদান করে জালিয়াতের মাধ্যমে উক্ত জমি পুনঃরেকর্ড করে নিয়েছে। এটা আমাদের সাথে সম্পূর্ণ প্রতারণা কররা হয়েছে। অপর দিকে শ্যামগঞ্জ মৌজার দক্ষিণ পার্শ্বে অবস্থিত কেডিএ এব আওতাধীণ মিরেরডাঙ্গা মৌজায় আবাসিক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প বিদ্যমান তাই কেডিএ কর্তৃপক্ষ ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না মেনে হুকুম দখলকৃত শ্যামগঞ্জ মৌজার আওতাধীন ভূমি মিরেরডাঙ্গা আবাসিক নাম করণ করে সুকৌশলে বান্তবায়নের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
গত ১৭/০১/২০১১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারক লিপি প্রদান করেও আমরা ক্ষতিগ্রস্থ ভূমির মালিকগণ কোন ফলাফল পাই নাই।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয় ১৩৫.১৪ একর জমিতে আমাদের প্রায় ২০০০ পরিবারে বসত ভিটা ছিল। শিল্প কারখানা করার লক্ষ্যে কেডিএ কর্তৃপক্ষ উক্ত জমি জেলা প্রশাসেেকর মাধ্যমে হুকুম দখল করলেন। চূড়ান্ত প্রাক্কলন করে ২ বছরের মধ্যে সমুদয় টাকা ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়ার বিধান থাকলের কর্তৃপক্ষ তা না করে মাত্র ৭৫% কম/বেশি টাকা ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে পরিশোধ করেছেন। ক্ষতিপূরণ সামান্য টাকা দিয়ে আমরা অন্য গ্রামে বা জায়গায় জমিজমা ক্রয় করতে পারি নাই। ফলে আমরা এবং আমাদের পরিবারের অধিকাংশই ভাড়া বাড়িতে, রেললাইনের পাশে এমনকি ছিন্নমূল হিসাবে বসবাস করছি। কেননা যতসামান্য আমাদের যে টাকা প্রদান কররা হয়েছে তা দিয়ে সকলের পক্ষে জমি কিনে বাড়ি করা সম্ভব হয় নাই। ফলে কেহ ভাড়া বাড়ীতে কেহ বা রেল লাইনের পাশে বস্তিতে বসবাস করছি। অন্যদিকে শিল্প-কারখানা করতে না পেরে অব্যবহৃত জমি কেডিএ কর্তৃপক্ষ পূর্বের জমির মালিকদের ফিরিয়ে না দিয়ে আমাদের শ্যামগঞ্জ মৌজার দক্ষিণ পাশ্বে কেডিএ তাদের বিদ্যমান মিরেরডাঙ্গা আবাসিক প্রকল্পের নাম করণ করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পেয়েও ক্ষতিগ্রস্থ ভূমির মালিকদের জমি প্লট আকারে বরাদ্দ দিচ্ছে। যা জমির প্রকৃত মালিকদের সাথে শতঠতা, প্রতারণা ও জুলুমের সামিল। কেডিএ এর বে-আইনী ও অবৈধ হুকুম দখলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মাননীয় সুপ্রীম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগে- ৩১১৬/২৪ নং রিট দাখিল করা হয়। উক্ত রিটের ভিত্তিতে মাননীয় বিচারক বৃন্দ গত ১৪/০৫/২০২৪ তারিখে রুলপিটিশন জারি করেন যে, কেন উক্তহুকুম দখল অবৈধ ঘোষণা করা হবে না মর্মে নোটিশ প্রাপ্তির ৪ সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। কিন্তু কেডিএ দীর্ঘ ১ বছর হয়ে গেলেও অবহেলা করে এখনও জবাব দাখিল করে নাই।
প্রধান সম্পাদক: মুন্সী জামিল উদ্দিন প্রকাশক: মোসা মিতা খাতুন
সরকারি মিডিয়াভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত
২১৯/১,নূরভবন (২য় তলা), ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন নাম্বার : ০১৭১৮৭৫২৯০৯
ইমেইল: dailybanglardoot@gmail.com
সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি।
Copyright © 2026 banglar doot. All rights reserved.