গত ১১ জানুয়ারি ২০২৫, রাত ৯:৩০ মিনিটে ঝিনাইদহ জেলার সদর থানার বাদপুকুরিয়া গ্রামের নুরুজ্জামান এর পুত্র মো. রফিকুল ইসলাম রুবেল (৩৩) নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও কোন ফল পাননি। পরে ১৮ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে দুপুর অনুমান ৩:৩০ ঘটিকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়ির সেফটি ট্যাংকের মধ্যে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। তার নিখোঁজের পর, রুবেলের ভাই আশিকুর রহমান বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় অপহরণ, হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা নং-২২, তারিখ-১৯ জানুয়ারি ২০২৫, ধারা-৩৬৪/৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডে নথিভুক্ত হয়। ঘটনাটি স্থানীয় গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়া আউটলেটে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হলে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এই প্রেক্ষাপটে, ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, বিপিএম-সেবা ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখতে এবং দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও খুনিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ থানা ও সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল এর একটি চৌকস টিম গঠন করেন।
সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল এবং থানা পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপহরণ, হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনায় জড়িত তিনজন আসামী গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন, ১. শাহিন মিয়া (৩৮), পিতা-সোলায়মান হক দুলাল, ২. টুটুল মিয়া (১৯), পিতা-শহিদুল মিয়া, ৩. সাগর মন্ডল (২১), পিতা-মন্টু মন্ডল, সকলেই বাদপুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
গ্রেফতারকৃত আসামী সাগর মন্ডল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি প্রদান করেন, যেখানে তিনি জানান, তারা একত্রিত হয়ে রুবেলকে অপহরণ করেছিল এবং মুক্তিপণের টাকা দাবি করেছিল। তবে মুক্তিপণের টাকা না পাওয়ায় তারা রুবেলকে হত্যা করে এবং তার লাশ গুম করার জন্য শাহিন মিয়ার পরিত্যক্ত বাড়ির পিছনের সেফটি ট্যাংকে ফেলে রাখে।
এ সময়, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল এবং থানা পুলিশ আরও তদন্ত করে এবং গ্রেফতারকৃত সাগরের মাধ্যমে তাদের সহযোগী আসামী টগরের (৩২) নাম জানতে পারে। টগর, যিনি অপহরণ ও হত্যার মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত হন, তার খোঁজে সাইবার ক্রাইম এর একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।
এছাড়া, সাইবার ক্রাইম টিম ঝিনাইদহ পুলিশের সহযোগিতায় নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় এবং ২৯ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে নরসিংদী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কলিমুল্লাহ এর সহায়তায় নরসিংদী সদর থানার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকাণ্ডের মূল আসামী টগরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
২৯ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে টগরকে গ্রেফতার করে ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে তাকে ঝিনাইদহ আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে, টগর লোমহর্ষক অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
ঝিনাইদহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. ইমরান জাকারিয়া বলেন, "অপহরণ, হত্যা এবং লাশ গুমের ঘটনায় জড়িত সকল আসামী মাদকাসক্ত এবং তাদের পরিকল্পনা ছিল রুবেলের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা। তাদের অপরাধের ফলে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যা এলাকার মধ্যে তীব্র শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। তবে পুলিশ কঠোরভাবে তদন্ত চালিয়ে আসামীদের গ্রেফতার করেছে এবং আইনের আওতায় আনা হয়েছে।"
এছাড়া, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় প্রাপ্ত তথ্য ও আলামত সাইবার টিম দ্বারা উদ্ধার করা হয়েছে এবং মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ আসামীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং স্থানীয়রা পুলিশ বাহিনীর প্রশংসা করেছেন তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।
প্রধান সম্পাদক: মুন্সী জামিল উদ্দিন প্রকাশক: মোসা মিতা খাতুন
সরকারি মিডিয়াভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত
২১৯/১,নূরভবন (২য় তলা), ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন নাম্বার : ০১৭১৮৭৫২৯০৯
ইমেইল: dailybanglardoot@gmail.com
সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি।
Copyright © 2026 banglar doot. All rights reserved.