ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বেড়াদী গ্রামে একই দিনে তালাক ও বিবাহের ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার (১২ জানুয়ারি ২০২৫ ইং) ঝিনাইদহ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিষ্ট্রার আব্দুল মান্নাফের অফিসে স্বামীকে তালাক এবং ঝিনাইদহ জেলা নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে (বিবাহ সংক্রান্ত শপথনামা) এ্যাফিডেভিট করেন মিতু ও শিমুল। যা ইসলামী নিয়ম ও বাংলাদেশ আইন মেনে হয়নি বলে জানান প্রশাসন।
মেয়ে যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট গ্রামের আব্দুর সালামের মেয়ে ও চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবন-নগর এলাকার মোঃ মৃত রহিম বকশোর ছেলে মোঃ মাসুদ রানার স্ত্রী মিতু খাতুন।
জানা যায়, মুসলিম ধর্মে তালাক এবং বিবাহের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। তালাক দেওয়ার পর মেয়ের 'ঊদ্দত' (পিরিয়ড) কাটানোর পরেই আবার বিবাহ করা যায়। এই 'ঊদ্দত' মেয়ের জন্য তিনটি মাসিক নিয়মিত ঋতু বা তিন মাসের সময়কাল হয় (কিন্তু যদি গর্ভবতী হন, তাহলে সন্তান প্রসবের পর পর্যন্ত)। এছাড়া সরকারি ভাবে তালাক ও বিবাহের ক্ষেত্রে মুসলিম সরকারি আইন রয়েছে। একই দিনে তালাক এবং বিবাহ হওয়া ইসলামী দৃষ্টিকোণ এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যৌক্তিক নয়। এটা দণ্ডনীয় অপরাধ।
শিমুলের পিতা মোশারফ জানান, ছেলে শিমুল বাসে সুপারভাইজারি করে। তার বড় স্ত্রী অনেক দিন ধরে অসুস্থ। তার স্ত্রীর থেকে জানতে পারি শিমুলের অনেক মেয়ের সাথে সম্পর্ক আর হঠাৎ করেই গতকাল ১৮ জানুয়ারি শনিবার রাতে মিতু নামে আরেকটি মেয়েকে স্ত্রী পরিচয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। তার বাড়িতে আরেটি স্ত্রী আছে। তারপরও সে আরেকটা বিয়ে করে এনেছে। আমরা বাড়িতে উঠতে না দিলে সে তার চাচার বাড়িতে উঠে।
মেয়েটি আগে বিবাহ হয়েছে সেখানে তার একটা ৫ বছরের একটা মেয়েও আছে। ওদের থেকে জানতে পারি মেয়েটি তার আগের স্বামীকে তালাক দিয়ে শিমুলকে বিয়ে করেছে। একই দিনে তালাক দিয়ে শিমুলকে বিয়ে করেছে। এই বিয়ে বৈধ কি না আমাদের জানা নেই। মেয়ে মোছাঃ মিতু খাতুন জানান, গত এক বছর ধরে শিমুলের সাথে প্রেমে আবদ্ধ হয়েছেন। রোববার ১২ জানুয়ারি আগের স্বামী মাসুদ রানাকে তালাক দিয়ে কোর্টের মাধ্যমে শিমুলকে বিয়ে করেছি। আগের ঘরে একটা মেয়ে আছে। শিমুল বিবাহীত জেনেই বিয়ে করেছি। আর আমরা যেহেতু কোর্টের মাধ্যমে বিয়ে করেছি এখানে অবৈধ কোন কিছু দেখছি না।
ছেলে শিমুল জানান, মিতুর সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। কোর্টের মাধ্যমে তার স্বামীকে তালাক দিয়ে আমাকে বিয়ে করেছেন। একই দিনে তালাক ও বিবাহের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, আমরা কোন অন্যায় করিনি। আমরা আইন মেনেই বিয়ে করেছি। একই দিনে তালাক ও বিবাহ হলেও সেটা আইনের মাধ্যমে হয়েছে। যদি আইন মেনে নাই হবে তাহলে কোর্ট আমাদের কিভাবে বিয়ে দিলো। প্রতিবেশী গরিফুল জানান, এমন বিয়ে মানা যায় না। এটা সামাজিকভাবে ঘৃণ্য একটি কাজ। অন্যের স্ত্রীকে ভাগিয়ে এনে, তার স্বামীকে তালাক দিয়ে, শিমুল যে বিয়ে করেছে এটা অন্যায়। এর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।
কালতামারী পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই শুব্রত বিশ্বাস বলেন, আইন অনুযায়ী কোন নারী প্রথম স্বামীকে তালাকের তিন মাস পর দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারে। মিতু-শিমুলের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। ইসলামী নিয়ম ও আইন অনুযায়ী তাদের ডিভোর্স হয়নি, তাহলে বিয়ে হয় কি করে। আর কোর্টে এ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে কোন বিবাহ হয় না সেখানে একটা চুক্তিপত্র হয়েছে। তারা এখনো বৈধ স্বামী-স্ত্রী নয়। এজন্য মেয়ের পরিবারের সাথে কথা বলেছি, তারা তাদের মেয়েকে তাদের কাছে রাখবে এবং ছেলে শিমুল নিজ বাড়িতে থাকবে। পরবর্তীতে তারা যদি আইন লঙ্ঘন করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রধান সম্পাদক: মুন্সী জামিল উদ্দিন প্রকাশক: মোসা মিতা খাতুন
সরকারি মিডিয়াভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত
২১৯/১,নূরভবন (২য় তলা), ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন নাম্বার : ০১৭১৮৭৫২৯০৯
ইমেইল: dailybanglardoot@gmail.com
সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি।
Copyright © 2026 banglar doot. All rights reserved.