নিজস্ব প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় অনিয়মই যেনো নিয়ম ও জনবল শুন্যতায় ভুগছে অফিস। ফলে সেবার পরিবর্তে দুর্ভোগে রয়েছে এ জেলা কার্যালয়ের কর্মরত কর্মচারীরা। তার মাঝে আধিপত্য বিস্তার ও মনগড়া অফিস চালানো যেন নিত্য দিনের ঘটনা।
নিয়ম বহিভূত কার্যক্রম দেখেও না দেখার অভিনয় করে ফায়দা লুটে নিচ্ছে এ অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। প্রতিনিয়ত এমন ঘটনা অহরহ ঘটনা ঘটছে বলে তথ্য পাওয়া গিয়াছে।
অফিসে গিয়ে ও তথ্য সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক ও উক্ত কার্যালয়ের কর্মচারীদের যোগসাজশে উপজেলা পর্যায়ের কর্মচারীদের হয়রানি মূলক বদলিও ক্ষমতার অপব্যবহারের হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে উপজেলা কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ৫ই আগষ্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়, এর পূর্বে আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী সাবেক সংসদ সদস্যের প্রভাবে জেলা অফিসের কর্মচারীরা রয়ে গেছে বহাল তবিয়তে। জেলা অফিসের দ্বারা বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন এমন অভিযোগও রয়েছে।
তথ্য সূত্রে আরো জানা গেছে জেলার উপপরিচালক ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রীঃ কিশোরগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় যোগদান করেলেও সংবর্ধনার নামে বিভিন্ন উপজেলায় নিন্মভুক্ত কর্মচারী কাছ থেকে চাঁদাবাজি করছেন । একেকজন নিম্নভোক্ত কর্মচারীদের কাছ থেকে ৮০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি ভোক্তভোগীদের । এই বিষয়ে উপজেলা কর্মচারীদের জিজ্ঞেস করা হলে তারা জানায়, তাদের বদলি ও হয়রানির ভয়ে কিছু বলতে পারছে না। পান থেকে চুন কসলেই বদলি ও হয়রানির ভয় দেখায় জেলা অফিসের কর্মকর্তা।
অন্যদিকে জেলা অফিসের লোকজন নিয়ম বহিভূত ব্যতিরেকে ১৫/২০ বছর যাবৎ একই অফিসে চাকুরী করলেও বদলি কি তা জানেই না তারা। কিশোরগঞ্জ জেলা কর্মচারীদের মধ্যে ২ যুগ পার করলেও সমস্যা নেই তাদের।
তথ্যমতে এ অফিসে তত্ত্বাবধায়ক প্রেমাশীষ ভৌমিক ১০(দশ) বছর, সার্টলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর বিপুল ভট্টাচার্য ২৫(পচিশ) বছর, প্রজেকশনিষ্ট কামরুজ্জামান খান ১৬(ষোল) বছর, সাটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর জামাল উদ্দিন২৫(বছর), ক্যাশিয়ার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন) ১৫(পনের)বছর যাবৎ একই অফিসে চাকরী করছে।
বদলির জন্য ২০থেকে ৩০হাজার টাকা, পেনশনের জন্য ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা, ল্যামগ্রেন্টের জন্য ১০ হাজার টাকা, জিপিএফ মঞ্জুরির জন্য ৫ হাজার টাকা বিভিন্ন ছুটির জন্য ৫ হাজার টাকা সহ যে কোন কাজ নিয়ে গেলে টাকা দাবি করে বলেও অভিযোগ রয়েছে । ঘুষের টাকা দিলে এসব কাজ হয়, নয়তো দিনের পর দিন ফাইল পরে থাকে, হয়না কোনো কাজ।
জেলা অফিসের কর্মচারীরা উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে অত্যন্ত খারাপ ও উদ্যেগপূর্ণ আচরণ করেন বলেও জানিয়েছে ভোক্তভোগীরা। সরকারি নীতিমালা মোতাবেক ৩ (তিন) বছরের বেশি একই কর্মস্থলে থাকতে পারবেন না বলে জানান জেলা অফিস কর্মকর্তা। স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের নির্দেশনা থাকার পরেও জেলা অফিসে কর্মচারীরা ১০ বছর থেকে ২৫ বছরের অধিক সময় ধরে কোন এক অদৃশ্য শক্তির বলে বহাল রয়েছেন।
বিগত দিনেও জেলা অফিসের উপপরিচালক ও জেলা অফিসের কর্মচারীদের বিষয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ হলেও কোন এক অদৃশ্যের শক্তির কারণে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মোঃ জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, উপজেলা কর্মরত জনবল বদলিতে জেলা অফিস, বিভাগীয় অফিস বা অধিদপ্তর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
তবে জেলা অফিসে কর্মরতদের তালিকা করে আমি বিভাগীয় অফিস ও অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি । বদলীর চিঠি অধিদপ্তরে পাঠানো ডকুমেন্ট চাইলে দিতে পারেনি। তিনি বলেন অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি আগামী মাসে বদলীর কার্যক্রম শুরু হবে। অফিসের বিভিন্ন সময়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয় তিনি বলেন, বিভাগীয় অফিসারগনের সময়মতো তদন্ত হবে তা উপরস্থ কমিটি রয়েছে।
বদলীজনিত বিষয় জানতে চাইলে পরিবার পরিকল্পনা,
ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ বেলায়েত হোসেন বলেন কিশোরগঞ্জ জেলা অফিসের কর্মচারীদের বদলীর ফাইল প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রধান সম্পাদক: মুন্সী জামিল উদ্দিন প্রকাশক: মোসা মিতা খাতুন
সরকারি মিডিয়াভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত
২১৯/১,নূরভবন (২য় তলা), ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন নাম্বার : ০১৭১৮৭৫২৯০৯
ইমেইল: dailybanglardoot@gmail.com
সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি।
Copyright © 2026 banglar doot. All rights reserved.