খবর জনতা ডেস্ক:
সোমালি জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি নাবিকদের বন্দিদশায় কেটে গেছে ২০ দিন। জিম্মি এমভি আব্দুল্লাহর নাবিকদের শুরুর দিনগুলো দুর্বিষহ কাটলেও এখন তারা অনেকটা ‘স্বাধীন’। জাহাজে চলাচলে নেই কোনো বাধা। চাইলে করতে পারছেন পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগ। তবে রেশনিং করে খাবার খেয়ে রাখছেন রোজা। করছেন ইফতারি। এমভি আব্দুল্লাহর মালিকপক্ষ ও নাবিকদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
কবির গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম বলেন, শুরুর দিনগুলোয় নাবিকদের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে দস্যুরা। তবে বর্তমানে তারা জাহাজে স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করছেন। শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আমরা দস্যুদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত জাহাজে পর্যাপ্ত খাবার ও পানি রয়েছে। তবে খাবারে যাতে সংকট না হয়, এ জন্য নাবিকরা রেশনিং করে খাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘জাহাজে খাবার ও পানির কোনো সংকট নেই। সংকট তৈরি হলে তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে খাবার পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। অনেকে মনে করছেন ইইউ নেভাল ফোর্স ও পাল্টল্যান্ড পুলিশের তৎপরতা শুরুর পর থেকে চাপে আছে জলদস্যুরা। ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি হওয়ায় তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে ভালোই অগ্রগতি হচ্ছে আলোচনা। এখন চলছে দরকষাকষি। আশা করা যায়, ঈদের আগেই নাবিক ও জাহাজ জলদস্যুমুক্ত হবে।’
জানা যায়, জিম্মি করার পর নাবিকদের গাদাগাদি করে একটি কেবিনে বন্দি রাখা হয়েছিল। কখনো তাদের রাখা হয় জাহাজের ব্রিজে। চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। দস্যুদের নির্ধারিত সময়ে পরিবার-পরিজন ও জাহাজ মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ হতো। কিন্তু তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে আলোচনা শুরুর পর পাল্টে যেতে থাকে জাহাজের সার্বিক পরিস্থিতি। নাবিকদের দেওয়া হচ্ছে জাহাজে ‘স্বাধীনতা’।
জাহাজে থাকা কয়লার তাপ, অক্সিজেন লেভেল মনিটরিংসহ অন্যান্য কাজ করা হচ্ছে যথানিয়মে। নাবিকরা এখন নিজ নিজ কেবিনে অবস্থান করছেন। পরিবার-পরিজন ও জাহাজ মালিকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতে পারছেন। চিফ কুক মো. শফিকুল ইসলামের তৈরি করা খাবার খেয়ে রোজা রাখছেন ও ইফতারি করছেন। শুরুর দিনগুলোয় জাহাজের মজুত খাবারে দস্যুরা ভাগ বসালেও এখন তারা নিজেদের খাবার নিজেরাই বাইরে থেকে আনছে।
জাহাজের চিফ অফিসার আতিকুল্লাহ খানের ভাই আবদুন নুর খান আসিফ বলেন, ‘যতটুকু জেনেছি নাবিকদের একটু ফ্রি মুভমেন্ট করতে দেওয়া হচ্ছে। জাহাজের নিয়মিত কাজগুলোও করতে দিচ্ছে।’
ওই জাহাজের এক নাবিকের স্বজন বলেন, জাহাজ জিম্মি করার ২০ দিন পেরিয়ে গেছে। এরই মধ্যে বিশুদ্ধ পানি ফুরিয়ে এসেছে। প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য এক ঘণ্টা পানি দেওয়া হচ্ছে। ওয়াশরুমে ব্যবহার করতে হচ্ছে সাগরের পানি। চার-পাঁচ দিন পর একবার গোসল করতে দেওয়া হচ্ছে। যারা বিভিন্ন দায়িত্বে আছেন, তারা ছাড়া অন্য নাবিকদের এক কেবিনেই গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে। একদিকে প্রতিদিন গোসল করতে না পারা, অন্যদিকে গাদাগাদি করে রাখার কারণে প্রায় প্রত্যেক নাবিকের চর্মরোগজনিত সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় তারা বেশ অস্বস্তিতে আছেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান বলেন, ‘চার-পাঁচ দিন গোসল না করলে যে কোনো মানুষের ইম্পেটিগো বা ত্বকে খোসপাঁচড়া হতে পারে। শরীরের ঘাম থেকে ব্যাকটেরিয়াজনিত দাদ রোগে ভুগতে পারেন। তা ছাড়া এ ধরনের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা অন্যদেরও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
গত ১২ মার্চ মোজাম্বিকের মাপুতো থেকে কয়লা নিয়ে আরব আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরে যাওয়ার পথে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ। জাহাজে ২৩ নাবিক রয়েছেন, যাদের সবাই বাংলাদেশি। জাহাজটি চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠী কবির গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসআর শিপিং করপোরেশনের। সুত্র : কালবেলা
প্রধান সম্পাদক: মুন্সী জামিল উদ্দিন প্রকাশক: মোসা মিতা খাতুন
সরকারি মিডিয়াভুক্ত জাতীয় দৈনিক বাংলার দূত
২১৯/১,নূরভবন (২য় তলা), ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন নাম্বার : ০১৭১৮৭৫২৯০৯
ইমেইল: dailybanglardoot@gmail.com
সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বেআইনি।
Copyright © 2026 banglar doot. All rights reserved.